| Your Ads Here 100x100 |
|---|
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিকবার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (PPA) সংশোধন করা হয়েছে। তবুও বিভিন্ন বড় প্রকল্পে দরপত্রকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট, সমন্বিত দর ও কাজ ভাগাভাগির অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এবার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)-এর প্রায় ২,১০৬ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্প ঘিরে এমন প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পের পটভূমি ও উদ্দেশ্য
সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসন সুবিধা দিতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
অবস্থান
মিরপুর সেকশন ৯ ও ১৪
- রাজধানীর সরকারি জমিতে নির্মাণ
- প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ
- মোট ফ্ল্যাট: ২,৩৬৪টি
- ফ্ল্যাট আয়তন: ১,২৫০–১,৩৫৫ বর্গফুট
- ভবনের উচ্চতা: ১০–১৫ তলা
- বেজমেন্ট পার্কিংসহ আধুনিক নকশা
সুবিধাসমূহ
- বেড ও প্যাসেঞ্জার লিফট
- সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
- জেনারেটর ব্যাকআপ
- সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা
- পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা
কাজ শুরু: ২০২৬
শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়: ডিসেম্বর ২০২৯
দরপত্রে অস্বাভাবিক মিল: কী অভিযোগ উঠেছে?
দরপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে:
- একই ধরনের প্যাটার্ন
- ৬টি প্যাকেজে প্রায় একই প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে
- দরগুলোর পার্থক্য খুব কম
- কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সব প্যাকেজে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে
- প্রতিযোগিতার ভান তৈরি করে কাজ ভাগাভাগির সম্ভাবনা
দর ব্যবধানের উদাহরণ
- সর্বনিম্ন দর: ১২৭ কোটি টাকা
- দ্বিতীয় দর: ১২৮ কোটি টাকা
- তৃতীয় দর: কয়েক লাখ বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ব্যবধান অনেক সময় পূর্বসমঝোতার ইঙ্গিত দেয়।
প্যাকেজভিত্তিক দরপত্রের চিত্র (সংক্ষেপ)
১ম প্যাকেজ
- জামাল এন্টারপ্রাইজ – ১২৭ কোটি
- নূরানী বিল্ডার্স – ১২৮ কোটি
- হোসেন কনস্ট্রাকশন – ~১২৮.৬৫ কোটি
২য় প্যাকেজ
- কুশলী বিল্ডার্স – ১২৬.৮৫ কোটি
- এনডিই–কেসিএল জেভি – ১২৮.৮৯ কোটি
- পদ্মা কনস্ট্রাকশন – ১২৯ কোটি
৩য় প্যাকেজ
- হোসেন এন্টারপ্রাইজ – ১২৭.৯৩ কোটি
- সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স – ১২৭.৯৩ কোটি
- বঙ্গ বিল্ডার্স – ১২৮.২৬ কোটি
অন্যান্য প্যাকেজেও একই ধরনের কাছাকাছি দর দেখা গেছে।
কেন সিন্ডিকেট সন্দেহ তৈরি হচ্ছে?
- সংশ্লিষ্টদের মতে সম্ভাব্য কারণ:
- একই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে অংশগ্রহণ
- দরগুলোর অস্বাভাবিক সামঞ্জস্য
- হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সব প্যাকেজে সক্রিয়
- পূর্বে একই প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারদের উপস্থিতি
এই কৌশলে প্রতিযোগিতা দেখিয়ে প্রকল্প ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হোরায়রা বলেন:
সব ভবনের নকশা ও আয়তন এক হওয়ায় দর কাছাকাছি হওয়া স্বাভাবিক। মূল্যায়ন কমিটি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করবে।
প্রকৌশলীদের দাবি:
নতুন দরপত্র ব্যবস্থায় আতাঁতের সুযোগ নেই। আইন মেনেই দর দেওয়া হয়েছে।বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণ বাড়াতে দরপত্র উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানোর কথা বলেছেন।
আইন অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?
সরকারি প্রকল্পে সাধারণত:
- উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান
- যোগ্যতা যাচাই
- টেকনিক্যাল মূল্যায়ন
- আর্থিক দর মূল্যায়ন
- সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতাকে কাজ প্রদান
তবে সমন্বিত দর দিলে প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
প্রকল্পটির গুরুত্ব
- শহীদ ও আহত পরিবারদের পুনর্বাসন
- রাজধানীর আবাসন সংকট কমানো
- বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয়
- ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার পরীক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতামত
নির্মাণ ও ক্রয় বিশেষজ্ঞদের মতে:
- দরপত্র ডেটা বিশ্লেষণ জরুরি
- প্রতিযোগিতার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা উচিত
- ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিট প্রয়োজন
- সিন্ডিকেট প্রমাণিত হলে ব্ল্যাকলিস্টিং দরকার
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এই বৃহৎ আবাসন প্রকল্প শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার একটি বড় পরীক্ষা। দরপত্রে সমন্বিত দর বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি সঠিক হলে এটি স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার ফলও হতে পারে।
স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর নজরদারিই পারে বিতর্কের অবসান ঘটাতে।

