18 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

‘জুলাইযোদ্ধা’ প্রকল্পের নামে চলছে হরিলুট

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিকবার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (PPA) সংশোধন করা হয়েছে। তবুও বিভিন্ন বড় প্রকল্পে দরপত্রকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট, সমন্বিত দর ও কাজ ভাগাভাগির অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এবার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)-এর প্রায় ২,১০৬ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্প ঘিরে এমন প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পের পটভূমি ও উদ্দেশ্য

সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসন সুবিধা দিতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

অবস্থান

মিরপুর সেকশন ৯ ও ১৪

  • রাজধানীর সরকারি জমিতে নির্মাণ
  • প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ
  • মোট ফ্ল্যাট: ২,৩৬৪টি
  • ফ্ল্যাট আয়তন: ১,২৫০১,৩৫৫ বর্গফুট
  • ভবনের উচ্চতা: ১০১৫ তলা
  • বেজমেন্ট পার্কিংসহ আধুনিক নকশা

 সুবিধাসমূহ

  • বেড ও প্যাসেঞ্জার লিফট
  • সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
  • জেনারেটর ব্যাকআপ
  • সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা
  • পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা

 কাজ শুরু: ২০২৬

 শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়: ডিসেম্বর ২০২৯

 দরপত্রে অস্বাভাবিক মিল: কী অভিযোগ উঠেছে?

দরপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে:

  • একই ধরনের প্যাটার্ন
  • ৬টি প্যাকেজে প্রায় একই প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে
  • দরগুলোর পার্থক্য খুব কম
  • কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সব প্যাকেজে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে
  • প্রতিযোগিতার ভান তৈরি করে কাজ ভাগাভাগির সম্ভাবনা

 দর ব্যবধানের উদাহরণ

  • সর্বনিম্ন দর: ১২৭ কোটি টাকা
  • দ্বিতীয় দর: ১২৮ কোটি টাকা
  • তৃতীয় দর: কয়েক লাখ বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ব্যবধান অনেক সময় পূর্বসমঝোতার ইঙ্গিত দেয়।

প্যাকেজভিত্তিক দরপত্রের চিত্র (সংক্ষেপ)

১ম প্যাকেজ

  • জামাল এন্টারপ্রাইজ ১২৭ কোটি
  • নূরানী বিল্ডার্স ১২৮ কোটি
  • হোসেন কনস্ট্রাকশন ~১২৮.৬৫ কোটি

২য় প্যাকেজ

  • কুশলী বিল্ডার্স ১২৬.৮৫ কোটি
  • এনডিইকেসিএল জেভি ১২৮.৮৯ কোটি
  • পদ্মা কনস্ট্রাকশন ১২৯ কোটি

৩য় প্যাকেজ

  • হোসেন এন্টারপ্রাইজ ১২৭.৯৩ কোটি
  • সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ১২৭.৯৩ কোটি
  • বঙ্গ বিল্ডার্স ১২৮.২৬ কোটি

অন্যান্য প্যাকেজেও একই ধরনের কাছাকাছি দর দেখা গেছে।

কেন সিন্ডিকেট সন্দেহ তৈরি হচ্ছে?

  • সংশ্লিষ্টদের মতে সম্ভাব্য কারণ:
  • একই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে অংশগ্রহণ
  • দরগুলোর অস্বাভাবিক সামঞ্জস্য
  • হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সব প্যাকেজে সক্রিয়
  • পূর্বে একই প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারদের উপস্থিতি

এই কৌশলে প্রতিযোগিতা দেখিয়ে প্রকল্প ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হোরায়রা বলেন:

সব ভবনের নকশা ও আয়তন এক হওয়ায় দর কাছাকাছি হওয়া স্বাভাবিক। মূল্যায়ন কমিটি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করবে।

প্রকৌশলীদের দাবি:

নতুন দরপত্র ব্যবস্থায় আতাঁতের সুযোগ নেই। আইন মেনেই দর দেওয়া হয়েছে।বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণ বাড়াতে দরপত্র উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানোর কথা বলেছেন।

আইন অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?

সরকারি প্রকল্পে সাধারণত:

  • উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান
  • যোগ্যতা যাচাই
  • টেকনিক্যাল মূল্যায়ন
  • আর্থিক দর মূল্যায়ন
  • সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতাকে কাজ প্রদান

 তবে সমন্বিত দর দিলে প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

প্রকল্পটির গুরুত্ব

  • শহীদ ও আহত পরিবারদের পুনর্বাসন
  • রাজধানীর আবাসন সংকট কমানো
  • বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয়
  • ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতামত

নির্মাণ ও ক্রয় বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • দরপত্র ডেটা বিশ্লেষণ জরুরি
  • প্রতিযোগিতার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা উচিত
  • ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিট প্রয়োজন
  • সিন্ডিকেট প্রমাণিত হলে ব্ল্যাকলিস্টিং দরকার

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এই বৃহৎ আবাসন প্রকল্প শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার একটি বড় পরীক্ষা। দরপত্রে সমন্বিত দর বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি সঠিক হলে এটি স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার ফলও হতে পারে।

স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর নজরদারিই পারে বিতর্কের অবসান ঘটাতে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

এক মন্ত্রণালয়ে দুই ‘সুমন’! তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় চমক

বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভায় এক বিরল মিল!একই ডাকনাম, একই মন্ত্রণালয়, এমনকি রাজনীতিতে উত্তরাধিকার—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এখন দুই ‘সুমন’। দেশের...