| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ছোট কিন্তু কৌশলগত মন্ত্রিসভা? তারেক রহমানের সরকার ঘিরে জোর জল্পনা
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য নতুন সরকার কেমন হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ থেকে ইঙ্গিত মিলছে—আকারে ছোট, কিন্তু দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি কৌশলগত মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০-এর নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কাজ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে দলটি। সিনিয়র নেতাদের ভাষ্য, এটি হবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় ভিন্ন কাঠামোর একটি মডেল।
রাষ্ট্রপতি থেকে অর্থমন্ত্রী—গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা?
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার পক্ষে যেতে পারে।
আইনমন্ত্রীর জন্য আলোচনায় আছেন ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। সংবিধান বিশ্লেষণ ও আইনি ব্যাখ্যায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া, যিনি দীর্ঘ তিন দশক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এ কর্মরত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় রয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ।
স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণে বিশেষ জোর
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এবারের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই মন্ত্রণালয়ের অধীনেই বাস্তবায়িত হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. ড. এম এ মুহিত সমাজকল্যাণ বা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি দেশে ১১টি চক্ষু হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক GLM-CPR-এর নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্য খাতে তার দীর্ঘ মাঠ-অভিজ্ঞতা তাকে শক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনর নামও আলোচনায় রয়েছে।
অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন, নতুন মুখের আগমন
স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খানর নাম শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস এবং জনপ্রশাসন বা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে।
পররাষ্ট্র বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত। এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং শামা ওবায়েদ মন্ত্রীসভায় থাকতে পারেন।
নতুন মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট), স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নাম বিবেচনায় রয়েছে।
মিত্রদেরও স্থান?
দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপির বাইরে সমমনা দল থেকে নির্বাচিত কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছেন ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ড. রেজা কিবরিয়া।
এছাড়া রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খানর নাম বিবেচনায় রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
সংসদ সদস্যদের শপথের পরই মন্ত্রিত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সবকিছুই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ছোট কিন্তু দক্ষতার ভিত্তিতে গঠিত মন্ত্রিসভা হয়, তবে সেটি হবে প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

