দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে ৯০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিভিন্ন প্রদেশে মোট ১২০টি বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ১২টি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়।
পুলিশের উপকমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা এলাকায় গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন ‘স্পাজা’ নামে পরিচিত ছোট দোকানগুলোতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জোহানেসবার্গের হিলব্রো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে। সেখানে সংঘর্ষে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বন্দরনগরী ডারবানে এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
অভিবাসীবিরোধী একটি সংগঠনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনই এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী বিদেশিদের দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল। এর আগেও কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশিদের লক্ষ্য করে হামলা, উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।