বলিউড তারকাদের সঙ্গে পাপারাজ্জিদের টানাপোড়েন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘনের অভিযোগে এর আগে জয়া বচ্চন ও সোনাক্ষী সিনহাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এবার একই ইস্যুতে সরব হলেন অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোকচিত্রীদের উদ্দেশে সরাসরি আপত্তি জানান নেহা। তিনি অভিযোগ করেন, অনুমতি ছাড়াই বা আপত্তি সত্ত্বেও অনেক সময় তার পেছন দিক থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়, যা তিনি অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করেন।
নেহা বলেন, ‘পেছন থেকে এভাবে ছবি বা ভিডিও তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। অনুগ্রহ করে এসব বন্ধ করুন।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি শুধু তার ক্ষেত্রে নয়, অন্য শিল্পীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, শিল্পীরা সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সম্মান দেখান। তাই আলোকচিত্রীদের কাছ থেকেও একই ধরনের পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন তারা।
নেহার এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, কারও সম্মতি ছাড়া নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী। বিশেষ করে নারী তারকারাই এমন ঘটনার বেশি শিকার হন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দর্শক টানার উদ্দেশ্যেই অনেক সময় এমন ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা হয়।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। একাংশের মতে, জনসমক্ষে থাকা তারকাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা সংবাদকর্মী ও আলোকচিত্রীদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। তাই সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এর আগে জাহ্নবী কাপুর, রশ্মি দেশাই, শানায়া কাপুর ও আয়েশা খানসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রীও অভিযোগ করেছিলেন, তাদের অস্বস্তিকরভাবে পেছন দিক থেকে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তারা এই প্রবণতাকে অসম্মানজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপারাজ্জি সংস্কৃতিও আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ভাইরাল কনটেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতায় অনেক সময় পেশাগত নৈতিকতার সীমা উপেক্ষিত হচ্ছে, যা তারকাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।