| Your Ads Here 100x100 |
|---|
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা। কিছুদিন আগে বেশ আয়োজন করে লটারির মাধ্যমে একাধিক প্রকৌশলীর কর্মস্থল নির্ধারণ করা হলেও, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্তে এসেছে পরিবর্তন।
লটারির মাধ্যমে বদলির এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে প্রশ্ন উঠেছে, লটারিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা স্থায়ী ছিল।
লটারিতে পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানের কর্মস্থল ঢাকার বাইরে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সমিতির সভাপতি রায়হান মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়ে কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার এই পোস্টের মাত্র চার দিনের মাথায় বদলি আদেশে আসে নতুন পরিবর্তন।
৮ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে জারি করা নতুন অফিস আদেশে মোহাম্মদ রায়হান মিয়া ও মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে ঢাকায় সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে শেরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য উইংয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ রায়হান মিয়াকেও একই জায়গায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অর্থাৎ, লটারির মাধ্যমে ঢাকার বাইরে বদলি হওয়ার পর আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট এবং তার মাত্র চার দিনের মাথায় আবার ঢাকায় সংযুক্তির আদেশ—এই ধারাবাহিক ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রশ্ন উঠছে, লটারিতে নেওয়া বদলির সিদ্ধান্ত কেন এত দ্রুত পরিবর্তন করা হলো? আন্দোলনের ঘোষণার সঙ্গে নতুন বদলি আদেশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, নাকি এটি প্রশাসনিক প্রয়োজনেই করা হয়েছে—তা স্পষ্ট হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও নথি থেকে।
এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লটারির মতো একটি পদ্ধতিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত যদি অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তন করা হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এখন দেখার বিষয়, সর্বশেষ এই বদলি আদেশের পেছনে কী কারণ ছিল এবং ভবিষ্যতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়নে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না।

