32.9 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

ইসরায়েলে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, প্রতিরোধ চলবে: হিজবুল্লাহ

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কে জয়ী হলো, তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। দেশটিতে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম। একই সঙ্গে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন শেষ হলেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। ভোট গণনার জটিল সমীকরণে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে থাকছেন, সেটি তাদের প্রতিরোধের অবস্থান নির্ধারণ করবে না।

বুধবার দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে নাইম কাসেম বলেন, “ইসরায়েল কে শাসন করছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে এটি স্পষ্ট যে, তারা তাদের দখলদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারবে না এবং আমাদের ভূখণ্ড থেকে তাদের সরে যেতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। লেবানন ও সংগঠনটির ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াবে। যত দিন দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন চলবে, তত দিন হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনার ৮৫ শতাংশ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট প্রধান বিরোধী জোটের তুলনায় সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে এই ব্যবধানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যার এই জটিল হিসাবের কারণে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নির্ধারণে জোট গঠন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ইসরায়েলের এই ক্ষমতার লড়াইকে নিজেদের প্রতিরোধের অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি নয় হিজবুল্লাহ।

লেবাননের রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল হিজবুল্লাহ। তবে গত দুই বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে সংগঠনটি সামরিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংঘাতের কারণে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

গত জুনে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দখল করা অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চুক্তির লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননের দখল করা অঞ্চল এবং এর আশপাশে ইসরায়েল এখনো বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালাচ্ছে ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য লেবানন সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ অবস্থায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধের দাবিকে সামনে রেখে নিজেদের সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ফলে ইসরায়েলের নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ হুথি কমান্ডার-যোদ্ধা নিহতের দাবি

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় হুথি...