32.9 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ হুথি কমান্ডার-যোদ্ধা নিহতের দাবি

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় হুথি গোষ্ঠীর ২৩৯ জন কমান্ডার ও যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গোষ্ঠীটির ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।

‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’ নামের সামরিক অভিযানের আওতায় সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল নুজাইলি।

কর্নেল নুজাইলি জানান, অভিযানে হুথিদের কয়েকটি কমান্ড সেন্টার, সামরিক ঘাঁটি, গোলাবর্ষণের স্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এবং রসদ সরবরাহের পথ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।

তিনি বলেন, হুথিদের গোলাবর্ষণের স্থানগুলো অকার্যকর করা এবং সম্মুখসারিতে থাকা তাদের যোদ্ধাদের কাছে নতুন করে যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর পথ বাধাগ্রস্ত করাও ছিল অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। সেনাবাহিনীর দাবি, অভিযানের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনে সফলতা এসেছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স’ বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থানগুলো আরও শক্তিশালী করছে বলেও জানান কর্নেল নুজাইলি। একই সঙ্গে হুথিদের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাইজ ছাড়াও আল-জওফ, মারিব ও আল-বায়দা প্রদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চলবে। তবে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হবে।

সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১০১ হামলার অভিযোগ হুথিদের

এদিকে সরকারি বাহিনীর হামলার পাল্টা অভিযোগ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী দাবি করেছেন, সোমবার ও মঙ্গলবারের ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ১০১টি হামলা চালানো হয়েছে।

ইয়াহইয়া সারীর অভিযোগ, এসব হামলায় রাজধানী সানা এবং দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও আল-জওফ, তাইজ, আমরান, হাজ্জাহ, সা’দা, আল-দালি, আল-মাহউইত ও লাহজ প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হুথি সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাগুলোতে সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও তায়েফ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের নাজরান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইয়াহইয়া সারী আরও অভিযোগ করেন, ২৪ ঘণ্টার এসব হামলায় রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন প্রদেশে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।

হুথি মুখপাত্রের দাবি, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪৮০টিতে দাঁড়িয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের দেওয়া এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা, হামলার পরিমাণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উভয় পক্ষের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

২০১৪ সাল থেকে সংঘাতে ইয়েমেন

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয় এবং একপর্যায়ে তা দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে সরকারি বাহিনী, হুথি বিদ্রোহী এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত বিভিন্ন সময়ে তীব্র হয়েছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা তাইজ, মারিব ও আল-জওফসহ বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করেছে। অন্যদিকে, সীমান্ত পেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুথিদের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করেছে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যসংকট, বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি এবং জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

নতুন সিনেমায় শরিফুল রাজ, থাকছে পারিবারিক আবেগের গল্প

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শরিফুল রাজকে নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন পরিচালক সৈয়দ শাকিল। পারিবারিক আবেগ ও সামাজিক সম্পর্কের...