28 C
Dhaka
রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের ২৭৭ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রোববার সকাল থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকার অন্তত ২৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল থেকেই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

অন্যদিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরে ১০০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোমবার থেকে কারখানাগুলো আবার চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন। এতে কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল থেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম পোশাক কারখানা, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কাজ বন্ধ রাখেন। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও তাদের আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দেন। দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়কে কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন।

এ সময় বিভিন্ন যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একটি পুলিশ বক্স ও একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একে একে প্রায় ১০০টি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের প্রধান দাবি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত না করা এবং ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই করছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এতে পরবর্তী সময়ে অন্য কারখানায় চাকরি পেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

সাভার-আশুলিয়ার কমফোর্ট কালেকশন পোশাক কারখানার অপারেটর রাজু আহমেদ বলেন, তাদের কারখানায় হেলপারদের মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ অন্যান্য পোশাক কারখানায় একই পদে কর্মরত শ্রমিকরা তুলনামূলক বেশি বেতন পান।

তিনি আরও বলেন, অন্য অনেক কারখানায় হাজিরা বোনাস হিসেবে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হলেও তাদের কারখানায় দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। ন্যায্য মজুরি ও বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর দাবিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকরা মূলত তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ।

তিনি জানান, এ বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের দাবিতে সড়কে নেমে আন্দোলন করছেন।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

কিউআর কোড স্ক্যান করেই পাঠানো যাবে টাকা, চালু হলো বাংলা কিউআরভিত্তিক সেবা

মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাংক হিসাব নম্বর টাইপ না করেই এখন থেকে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে একজন ব্যক্তি অন্য...