29.3 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

গাজার প্রাণহানি নিয়ে কটাক্ষ, হোয়াইট হাউসকে ধুয়ে দিল বিবিসি

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

গাজায় প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস কটাক্ষ করে মন্তব্য করায় উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারি বিবিসির প্রতিবেদনের তুলনা করেছেন ‘হামাসের ভাষা’র সঙ্গে। তবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

‘হামাসের কথা, বিবিসির প্রতিবেদন’

ঘটনার সূত্রপাত রোববার। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা সিভিল ডিফেন্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় একটি সাহায্যকেন্দ্রের কাছে গুলি চালিয়ে অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা সেখানে বেসামরিকদের লক্ষ্য করেনি।

এই প্রতিবেদনের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমরা হামাসের কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না, যেমনটা কিছু গণমাধ্যম—বিশেষ করে বিবিসি—করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবিসি বারবার তাদের প্রতিবেদন শিরোনাম বদলেছে এবং পরে প্রতিবেদন সরিয়ে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বিবিসির প্রতিবাদ

বিবিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা কোনো প্রতিবেদন সরাইনি। আমরা আমাদের সাংবাদিকতার পক্ষে অটল। ঘটনাটি একটি চলমান পরিস্থিতি হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আপডেট হওয়াটা স্বাভাবিক।”

সংস্থাটি ব্যাখ্যা করে বলেছে, তারা বিভিন্ন উৎসের তথ্য—যেমন, মেডিকেল সূত্রে ১৫ জন, হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৩১ জন এবং রেডক্রসের হিসাবে ২১ জন—সবগুলোই স্পষ্টভাবে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

রেডক্রস ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানায়, রাফাহ ফিল্ড হাসপাতালে রোববার ১৭৯ জন আহত ফিলিস্তিনি এসেছিলেন, যাদের মধ্যে ২১ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য উৎসের অভাবে প্রতিবেদন সরিয়ে নেয় এবং পরে আপডেট করে জানায়, কে গুলি চালিয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আগের বিতর্ক

বিবিসি এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ‘Gaza: How To Survive A Warzone’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করে বিতর্কের মুখে পড়ে। পরে তারা স্বীকার করে, ১৩ বছর বয়সি যে বালকের অভিজ্ঞতা দেখানো হয়, সে একজন হামাস নেতার ছেলে—যা ‘গুরুতর ভুল’ ছিল।

সহিংসতায় জর্জরিত গাজা

রোববারের ঘটনার পর সোমবার গাজায় আরও তিনজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন। মঙ্গলবার নিহত হন আরও ২৭ জন, আহত হন অন্তত ৯০ জন।

গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এই পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো, যুদ্ধবিরতির পথে বাধা

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সে প্রস্তাবে ভেটো দেয়, ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রাজনৈতিক-মানবিক দ্বন্দ্ব

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদানের পশ্চিমা কাঠামো এখন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিবেচনায় জটিল হয়ে উঠেছে।

একদিকে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে পাশ কাটিয়ে সহায়তা দিতে চাইলেও, বাস্তবে সেই সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি। প্রতিটি ঘটনার মিডিয়ায় প্রতিবেদন এখন একেকটি নতুন ন্যারেটিভ যুদ্ধের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: বিবিসি, এএফপি, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

গণপূর্তে লটারির ঝড়! এবার বদলি ৪০৯ প্রকৌশলী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরও ৪০৯ জন প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী...