| Your Ads Here 100x100 |
|---|
খবরের দেশ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কক্সবাজার, যার নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের ছবি। অথচ সেই কক্সবাজার আজ নিজ ভূখণ্ডেই পরাধীন। রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, এমনকি সরকারি আমলারা পর্যন্ত নিজেদের মতো করে টুকরো টুকরো করে দখল করে নিচ্ছেন সমুদ্র ও তার আশপাশের জমি। স্থানীয় মানুষের জমি হাতছাড়া হচ্ছে, প্রকৃতি হারাচ্ছে ভারসাম্য।
সমুদ্র তীরের বালুকাবেলায় হাঁটার জায়গা নেই, কারণ সেখানে উঠেছে হোটেল, কটেজ, রিসোর্ট। ‘উন্নয়ন’ আর ‘পর্যটন সুবিধা’–এই নামেই চলছে ভূমিদখলের উৎসব। সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঘেরাও এলাকা , বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন হোটেল-মোটেল জোন—সব মিলিয়ে যেন কক্সবাজার এখন এক দখলদার-প্রজাকেন্দ্রিক এলাকা।

এখানে শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্য নয়, হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের অস্তিত্ব। ভূমিহীন হয়ে পড়ছে স্থানীয় জনগণ, যাদের পূর্বপুরুষ এই উপকূলে বসত গড়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সৈকত রক্ষা নয়, আশপাশের পাহাড়, বন ও জলাভূমিও সংরক্ষণ করা জরুরি। অথচ জায়গাগুলোও বেহাত হচ্ছে কর্পোরেট দখলে। উদাহরণস্বরূপ, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই নামমাত্র কাগজপত্রে পুরো অঞ্চলের মালিকানা নিচ্ছে। স্থানীয় মানুষ জানেই না—এই ভূমির উপর তারা কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের তরুণদের মধ্যে বই পড়ার হার কমছে, শিল্প-সাহিত্যচর্চা নেই বললেই চলে। নেই গণ পাঠচক্র, গণনাট্য বা সামাজিক আন্দোলনের শক্ত ভিত। ফলে প্রতিবাদ আসছে দুর্বল কণ্ঠে, প্রতিরোধ হচ্ছে ভঙ্গুর।
এখন প্রশ্ন, সমুদ্র যদি মানুষের, তবে মানুষের ভূমি কে রক্ষা করবে?
জবাব একটাই: শিক্ষা, সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ। কক্সবাজারকে বাঁচাতে হলে দরকার এক সাহসী, সংগঠিত প্রজন্ম—যারা শুধু পর্যটনের নামে ঢেউয়ের ছবি নয়, ভূমির অধিকার নিয়ে কথা বলবে।
অন্যথায়, কক্সবাজার একদিন সত্যিই হয়ে উঠবে ধনীদের ‘সামুদ্রিক কনক্রিট শহর’।
যেখানে ঢেউ থাকবে, কিন্তু নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা থাকবে না।

