মানুষের মস্তিষ্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)/ ChatGPT ব্যবহারে আমাদের মস্তিষ্কে কী ঘটে, এই নিয়ে একটি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে ।
MIT-এর গবেষকরা ৫৪ জন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ (EEG প্রযুক্তির মাধ্যমে) পর্যবেক্ষণ করেন যখন তারা প্রবন্ধ লেখেন—কখনও ChatGPT ব্যবহার করে, কখনও ওয়েব সার্চের মাধ্যমে, আবার কখনও সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তায়।
গবেষণার ফলাফলগুলি বেশ চমকপ্রদ:
মস্তিষ্কের সংযুক্তি দুর্বল হয়েছে AI সহায়তায়। যারা ChatGPT ব্যবহার করেছেন, তাদের নিউরাল সক্রিয়তা ছিল সবচেয়ে কম।
মেমোরি ধস। ChatGPT ব্যবহারকারীদের ৮৩% নিজস্ব লেখা প্রবন্ধ কয়েক মিনিট পরও উদ্ধৃত করতে পারেননি, যেখানে নিজের চিন্তায় লেখা অংশগ্রহণকারীদের স্মরণক্ষমতা ছিল প্রায় নিখুঁত।
“মানসিক ঋণ” জমেছে। ChatGPT ব্যবহার করে যারা লিখেছেন, পরে যখন তারা AI ছাড়া লেখেন, তখন তাদের মস্তিষ্কে সংযুক্তির মাত্রা ছিল কম, তুলনায় যারা নিজে নিজে চর্চা করেছিলেন।
সৃষ্টিশীলতা হ্রাস পেয়েছে। AI-সহায়তায় লেখা প্রবন্ধগুলো পরিসংখ্যানগতভাবে আরও একঘেয়ে এবং কম মৌলিক ছিল।
কিন্তু টুইস্টটা হল: কখন AI ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়। শুরুতে নিজস্ব চিন্তায় কাজ করার পর AI ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা অনেক ভালোভাবে বজায় থাকে, তুলনায় যাদের শুরু থেকেই AI-নির্ভরতা ছিল।
এটি কোনোভাবেই AI বিরোধিতা নয়—বরং বোধগম্যতা তৈরি করা যে এর ব্যবহারে কী কী মুল্য দিতে হতে পারে। যদিও AI-সহায়তায় লেখা প্রবন্ধগুলো শুরুতে ভালো নম্বর পেয়েছে, তবুও অংশগ্রহণকারীরা দেখিয়েছেন বোধগম্য চিন্তা, স্মৃতি রক্ষার ক্ষমতা এবং কাজের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে অবক্ষয়ের লক্ষণ।