25.2 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

মর্গের ভেতরটা নিস্তব্ধ, কিন্তু বাতাস ভারী—জেট ফুয়েলের ঝাঁঝালো গন্ধে

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100
খবরের দেশ ডেস্ক :
মর্গের ভেতরটা নিস্তব্ধ, কিন্তু বাতাস ভারী—জেট ফুয়েলের ঝাঁঝালো গন্ধে। ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালের মর্গে ঢুকলেই বোঝা যায়, যেন যুদ্ধ শেষে ক্ষতবিক্ষত দেহগুলো এখানে আশ্রয় নিয়েছে। প্লাস্টিক বডি ব্যাগের ভেতর যে যন্ত্রণার ইতিহাস গুমরে উঠছে, তা আর কল্পনায় নয়—বাস্তবে স্পর্শ করা যাচ্ছে।
সোমবার দুপুরে কুর্মিটোলা আকাশে যে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, তাতে প্রাণ হারান অন্তত ১৮ জন। মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শিশু—এমনটাই জানালেন এক পুলিশ সদস্য, যিনি দুর্ঘটনার পর থেকেই মর্গে রয়েছেন। তিনি বলেন, “বডি ব্যাগ খুলে চোখ রাখা যায় না। ওদের বয়সই বা কত? ছয়, সাত কিংবা আট!”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও একটি সামরিক হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মর্গেই রাখা হয়েছে দগ্ধ মরদেহ। বডি ব্যাগ খুললেই বের হয় এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) তীব্র গন্ধ—প্রমাণ করে কতটা ভয়াবহ ছিল বিস্ফোরণ। শিশুর শরীরেও লেগে আছে আগুনের দাগ, গলে যাওয়া কাপড়, ঝলসে যাওয়া হাত-পা।
মর্গের পাশের বিশ্রামকক্ষে বসে থাকা এক নারী অস্ফুট কণ্ঠে বলছিলেন, “বিমানটা নিচে পড়তেই চারপাশে আগুন। জানলার পাশে বসে ছিল আমার মেয়ে। কে জানত স্কুলটাই তার কবর হবে!”
মেয়েটির নাম রুনা। বয়স মাত্র ৯। মা তার ব্যাগটা এখনো বুকে আগলে রেখেছেন। মাঝে মাঝে ফোঁপান, আবার চুপ করে বসে থাকেন। আশপাশে আরও অনেক মা-বাবা—কারও মুখে আর ভাষা নেই।
মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের হাতে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। তবে অধিকাংশ মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করাই কঠিন।”
তবে মর্গে ঢোকার সময় যে গন্ধটা নাকে লেগে থাকে, তা শুধু জেট ফুয়েলের নয়—সেই গন্ধে মিশে আছে মৃত্যুর, ভয়াবহতার, আর অপূরণীয় এক ক্ষতির ইতিহাস।
গোটা দেশ অপেক্ষা করছে তদন্তের ফল জানার। কিন্তু এর মধ্যেই শিশুদের কফিন নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটির নিচে। এক মা বলেছিলেন, “ওর বইগুলো তো আগুনেও পুড়ল না, আমি সেগুলো নিয়ে যাব।” কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান তিনি।
এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে পুড়িয়ে দেওয়া এক কালো দিন।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

দুই বছরে অনলাইন বাস টার্মিনাল: প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত

  বিশ্ব পর্যটন দিবসেই যাত্রা, দুই বছরে ১১০+ পরিবহন, ২,৭৭৩ বাস, ২,৭৫৩ চালক ও ৫৮,৯৯২ ডিজিটাল শিডিউল আজ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,...