আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
অনলাইনে ‘বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হিসেবে পরিচিত ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ‘কট ইন প্রভিডেন্স’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
কোর্ট মানেই আমাদের চোখে কঠোরতা, শীতল নিয়ম আর শাস্তির জায়গা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের Providence শহরে ছিলেন এক বিচারক, যিনি পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছেন “The Kindest Judge” নামে। তিনি হলেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও।
ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিওর শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে। ইতালীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে একসময় ওয়েটার, দুধ বিক্রি, এমনকি জুতো পালিশ পর্যন্ত করেছেন। সেই মানুষটিই একদিন পৌর আদালতের প্রধান বিচারক হলেন।
তবে তাঁকে বিশেষ করেছে তাঁর মানবিক বিচারধারা। তাঁর কোর্টে আসা মামলাগুলো সাধারণত ট্রাফিক আইন ভাঙা, পার্কিং টিকেট বা ছোটখাটো অপরাধ। কিন্তু প্রতিটি মামলায় তিনি শুধু আইনের বই দেখেন না, বরং মানুষের চোখে চোখ রেখে তাঁদের গল্প শোনেন।
একবার এক বাবা ছোট ছেলেকে নিয়ে কোর্টে এসেছিলেন। বিচারক মজা করে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন— “তুমি কি বাবাকে ফাইন দিতে বলবে নাকি ক্ষমা করবে?” ছেলেটি নির্দ্বিধায় বলল, “ক্ষমা!”। বিচারক হাসলেন, মামলাটা মাফ করে দিলেন।
আবার এক বৃদ্ধ ভেটেরান কোর্টে এসে জানালেন বয়স ও অসুস্থতার কারণে তিনি ট্রাফিক আইন মানতে পারেননি। ক্যাপ্রিও তাঁর কাহিনি শুনে সব ফাইন মওকুফ করে দেন।
এক দরিদ্র মা সন্তানদের খাবারের টাকার জন্য নিয়ম ভেঙেছিলেন। বিচারক শুধু তাঁকে ক্ষমাই করেননি, বরং আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করেছিলেন।
এই জন্যই তাঁর অনুষ্ঠান “Caught in Providence” সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়। মানুষ তাঁকে ভালোবাসে কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন, আইন মানে শুধু শা’স্তি নয়, আইন মানে ন্যায় আর মানবিকতার সমন্বয়।