সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পশ্চিমা শক্তির সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন না। ক্ষমতাচ্যুতির পর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও সাম্প্রতিক সিএনএন–নিউজ এইটিন সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান পরিবর্তন করেন।
হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের “স্থিতিশীল সম্পর্ক” রয়েছে; তাই বিদেশি শক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার ধারণা যৌক্তিক নয়। তবে তিনি বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা শক্তির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, যা অনেকে ভুলভাবে রাজনৈতিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করতে ছাত্রলীগ ও সরকারি ক্যাডারদের সহিংসতার পর দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক সংঘর্ষ ও রক্তপাতের পর সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হলে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন।
ওএইচসিএইচআর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত। বিবিসির অনুসন্ধানে ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে শেখ হাসিনাকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। রায় ঘোষণা হবে ১৭ নভেম্বর।
তবে বিবিসিকে দেওয়া আলাদা সাক্ষাৎকারে হাসিনা এসব মানবতাবিরোধী অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আদালত “ক্যাঙ্গারু কোর্টের মতো সাজানো প্রহসন” করছে। তার দাবি, তিনি কখনোই নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে একটি স্বাধীন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত প্রয়োজন।