মিরপুরের সকালের আলো যেন আজ একটু অন্যরকম ছিল। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ভেসে বেড়ানো প্রত্যাশার চাপ, ড্রেসিং রুমের দরজায় অদৃশ্য এক উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে আজকের দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা ছিল আগেই। কারণ, ২০ নভেম্বর ছিল কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন নয়, ছিল একজন মানুষের দুই দশকের সংগ্রাম, স্থিতিস্থাপকতা আর নির্ভরতার এক মহামিলন।
সেই মানুষটি—মুশফিকুর রহিম।
শততম টেস্ট, শততম রানে পৌঁছানোর গল্প
৯৯* রানে রাত কাটিয়ে নতুন দিনের মুখোমুখি হন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। দ্বিতীয় দিনের মাত্র দ্বিতীয় ওভারে জর্ডান নেইলকে লেগ সাইডে ঠেলে দিলেন তিনি। বল গড়িয়ে যেতেই যেন থমকে গেল মিরপুর।
এক মুহূর্ত পর—দুই হাত উঁচিয়ে সেই পরিচিত, আত্মবিশ্বাসী উদযাপন।
এই শতকটি ছিল তার ১৩তম, কিন্তু ১২টির কোনোটি নয়—এটিই সবচেয়ে মূল্যবান, সবচেয়ে প্রতীকী।
কারণ আজ তিনি শুধু রান করেননি—
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলে, সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে ঢুকে গেলেন ক্রিকেটের এক বিরল ‘লাল মখমলের’ আলমারিতে।
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে মাত্র ১১ জনের কীর্তি
মুশফিকের আগে যারা শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন, তারা সবাই বিশ্ব ক্রিকেটের মহাতারকা—
কলিন কাউন্ড্রে, জাভেদ মিয়াঁদাদ, গ্রিনিজ, স্ট্রুয়ার্ট, ইনজামাম, পন্টিং (দুইবার!), গ্রায়েম স্মিথ, আমলা, জো রুট, ডেভিড ওয়ার্নার…
আজ সেই তালিকায় যুক্ত হলো—
একজন বাংলাদেশি ব্যাটারের নাম।
একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন।
একটি প্রজন্মের ধারাবাহিকতা।
একটি জাতির ক্রিকেটীয় বেড়ে ওঠা।
দুই দশক ধরে নির্ভরতার আরেক নাম
যে সময়ে বাংলাদেশ নবীন, অনভিজ্ঞ, প্রায়ই ভঙ্গুর ছিল—সেই সময় থেকেই দাঁতে দাঁত চেপে দলের পাশে দাঁড়ানো মুখগুলোর একটি ছিল মুশফিক।
-
১২টি সেঞ্চুরি
-
৩টি ডাবল সেঞ্চুরি
-
অগণিত চাপের মুহূর্ত থেকে দলকে টেনে তোলা
এই সবকিছু মিলেই তিনি আজকের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।

