25 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রমরমা এমপিও বাণিজ্য, ২০ পদে ভুয়া অনুমোদন

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধির চিঠি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বোর্ডের রেজুলেশন এবং বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাবের অনুমোদনপত্র জাল করে মাত্র পাঁচ মাসে অন্তত ৫ কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র স্থানীয় কয়েকজন মাদ্রাসা সুপার এবং মাদ্রাসা অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কোনো বৈধ নিয়োগ ছাড়াই ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও সহকারী মৌলভী শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে এমপিওভুক্তি করিয়ে আসছে। গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু রাজারহাট উপজেলাতেই ২০টিরও বেশি পদে ভুয়া এমপিও হয়েছে। একই সময়ে আরও প্রায় ১৫টি পদে এমপিও করে দেওয়ার শর্তে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসাকে অনিয়মের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই মাদ্রাসায় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কর্মরত অফিস সহকারী মাহফুজার রহমানের পদে এমপিওভুক্ত করা হয় মাদ্রাসা সুপার আব্দুল আউয়ালের কন্যা আক্তারুন্নাহারকে। একই সময়ে মাহফুজার রহমানকে এমপিও সিটে এবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। পরবর্তীতে তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে মাদ্রাসা অধিদপ্তর আক্তারুন্নাহারের এমপিও বাতিল করে চাকরির শুরু থেকে পাওয়া সব অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। তবে সেই প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে মাত্র এক মাস পরই অক্টোবরে তাকে পুনরায় সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে এমপিওভুক্ত করা হয়। একই এমপিও সিটে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আরও দুইজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই মাদ্রাসায় বাস্তবে কোনো কম্পিউটার ল্যাব বা বিজ্ঞানাগারের অস্তিত্ব নেই।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও তা উপেক্ষা করে গত বছরের নভেম্বর মাসে সুপারের অপর কন্যা আরিফুন্নাহার মুন্নিকে সহকারী মৌলভী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগে এনটিআরসিএর কোনো সুপারিশপত্র পাওয়া যায়নি।
সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় তিন বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি না থাকলেও বর্তমানে একটি এডহক কমিটি পরিচালিত হচ্ছে, যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিধি অনুযায়ী এডহক কমিটির নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার না থাকলেও গত বছরের নভেম্বর মাসে নৈশপ্রহরী, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তিনটি পদে নতুন করে এমপিওভুক্তি করা হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখিয়ে এবং নিয়মিত কমিটি বা ইউএনওর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেই এসব এমপিও করানো হয়েছে।
এছাড়াও বুড়িরহাট আব্দুস সাত্তার মন্ডল দাখিল মাদ্রাসা, কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা, পান্থাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, সুকদেব ফাজিল মাদ্রাসা ও রাজমাল্লীরহাট ফাজিল মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই কৌশলে বিভিন্ন পদে নতুন এমপিও হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগারের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও জাল অনুমোদনপত্র ও ডিজির প্রতিনিধির ভুয়া চিঠির মাধ্যমে এমপিও করানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মচারীর চারটি পদে নিয়োগের আগেই ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ডিজির প্রতিনিধি বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও অভিভাবকরা।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিটি পদে সর্বনিম্ন ১৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে সুপার আব্দুল আউয়াল ল্যাব থাকার দাবি করলেও তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তার কন্যাদ্বয়ের এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান এবং এক পর্যায়ে স্থান ত্যাগ করেন। কানুরাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইফুল ইসলাম বিধি অনুযায়ী নিয়োগের দাবি করলেও বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল ইমরান বলেন, “মাদ্রাসাগুলোতে এমপিও সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর অবস্থানে ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান...