চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় গাড়িতে হামলার অভিযোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি রাতে মামলাটি করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজু। তবে অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন এলডিপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাজালিয়া ইউনিয়ন সভাপতি আনিস উদ্দিন, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি রিয়াদ কামালসহ মোট ১২ জন। এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের অনেকেই চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বাইরের, বিশেষ করে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে বলা হয়, এম এ হাশেম রাজু বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কর্নেল অলি ও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি দায়িত্ব না ছাড়লে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি রাতে পুরানগড় ইউনিয়নে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে রাজু তাঁর গাড়িবহর নিয়ে ফেরার পথে বাজালিয়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে ভাঙা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, কর্নেল অলির নির্দেশে এলডিপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালান এবং গুলিও ছোড়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কর্নেল অলি আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শিমুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজুর গাড়িতে কথিত হামলার সঙ্গে এলডিপি বা ১১ দলীয় জোটের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। তাঁর দাবি, মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকেন না এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।