রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইসলাম ধর্মে যে দানের বিধান রয়েছে, তা হলো সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা। এটি মূলত দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—‘সাদাকা’ অর্থ দান এবং ‘ফিতর’ অর্থ রোজা ভঙ্গ করা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজা ভঙ্গের উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে যে দান বিতরণ করা হয়, তাকেই সাদাকাতুল ফিতর বলা হয়।
কার ওপর ফিতরা ওয়াজিব
ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে যদি কোনো মুসলিমের কাছে তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাইরে এমন সম্পদ থাকে যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ, তাহলে তার ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়।
এই সম্পদের মধ্যে টাকা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, বসবাসের প্রয়োজন নেই এমন জমি বা অতিরিক্ত বাড়ি এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও হিসাব করা হয়।
হাদিসে উল্লেখ আছে, পরিবারের ছোট-বড় সবার পক্ষ থেকেই ফিতরা আদায় করতে হবে। নাবালেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পদ থাকলে তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবক ফিতরা আদায় করবেন।
ফিতরা কাদের দেওয়া যাবে
যাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ, তাদেরকেই ফিতরা দেওয়া যাবে। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী জাকাত বণ্টনের জন্য আটটি খাত নির্ধারিত রয়েছে—
১. ফকির
২. মিসকিন
৩. জাকাত সংগ্রহকারী কর্মচারী (আমিল)
৪. নওমুসলিম বা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যাদের সাহায্য প্রয়োজন
৫. দাসমুক্তির জন্য
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
৭. আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তি বা দ্বীনি শিক্ষার্থী
৮. মুসাফির
যাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে না
কিছু ব্যক্তিকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। যেমন—
-
যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে
-
নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি
-
নিজের সন্তান, নাতি-নাতনি
-
স্ত্রী
-
রাসুল (সা.)-এর বংশধর বা সৈয়দ পরিবার
-
অমুসলিম ব্যক্তি
-
মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ বা বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজে

