অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হয়নি স্পেনের। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোহা।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে নাটকীয় সব মুহূর্তের পর আসে শিরোপা নির্ধারণী গোল।
অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটেই জালে বল পাঠান নিকো উইলিয়ামস। তবে গোলের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে ফাউল করেছেন—এমন সিদ্ধান্ত দিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
ঘটনাটিতে মেরিনোর চাপে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান ওতামেন্দি। এরপর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে সহজেই জালে বল জড়ান উইলিয়ামস। কিন্তু রেফারির বাঁশিতে থেমে যায় স্প্যানিশদের উদযাপন।
গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে ম্যাচ শেষে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) আলাদা করে ঘটনাটি পর্যালোচনা না করায় মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। টেলিভিশন রিপ্লেতে মেরিনো ও ওতামেন্দির মধ্যে সামান্য সংস্পর্শ দেখা গেলেও অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ছিল ‘সফট ফাউল’ এবং চাইলে খেলা চালিয়েও দেওয়া যেত।
তবে হতাশ হয়নি স্পেন। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে ফেরান তোরেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় এবং ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।
ম্যাচের ১১৩ মিনিটে ফেরান তোরেস নিজের দ্বিতীয় গোলও করেছিলেন। একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটিও বাতিল হয়। ফলে দুটি বাতিল গোলের পরও ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই বিশ্বকাপের মুকুট পরে স্পেন।