সংবাদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও, একটি কাবিননামা এবং বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর প্রথমদিকে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়ম খাতুনকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা বি.এ.এম. বাকী বিল্লাহ দাবি করেন, তাকে ফোনে জানানো তথ্যের ভিত্তিতে কাবিননামা প্রস্তুত করতে বলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের তারিখ ১৭ জুন (বা সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখিত তারিখ) দেখানো হলেও কনে ও অভিভাবকের স্বাক্ষর পরে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বিয়ে কোথায় সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ জানা ছিল না।
কাবিননামায় কনের জন্মতারিখ এবং বয়স নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কাজীর দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি জন্মতারিখ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস।
অন্যদিকে, ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট একটি বায়োডাটার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে ২২ জুন তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের সুপারিশ থাকলেও মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা “অবিবাহিত” লেখা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে গাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্পূর্ণ ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত ভিডিও, কাবিননামা, কাজীর বক্তব্য এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত উপসংহারে পৌঁছানোর আগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষা প্রয়োজন।