25.9 C
Dhaka
রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

দুই হাত ছাড়াই পা দিয়ে লিখে মাস্টার্স সম্পন্ন, এবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নীলা খাতুনের

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100


জন্মগতভাবে দুই হাত কার্যত না থাকলেও জীবনের প্রতিটি বাধাকে অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে জয় করেছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চর বড়ধুল গ্রামের নীলা খাতুন। পা-কে হাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে তিনি সম্পন্ন করেছেন কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি। এখন তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা একটি চাকরি, বিশেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা।
দিনমজুর উসমান গনি ও শাহিনুর বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় নীলা জন্ম থেকেই দুই হাতের স্বাভাবিক গঠন ছাড়াই বেড়ে ওঠেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে কখনো শিক্ষার পথ থেকে সরাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই প্রবল আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি।
প্রথমদিকে মায়ের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে যাতায়াত করলেও সময়ের সঙ্গে পা দিয়েই লেখা, পরীক্ষা দেওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার, টিউবওয়েল থেকে পানি তোলা, গবাদিপশুর পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থীদের টিউশনি করিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করছেন।
শিক্ষাজীবনেও রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্য। ২০১৭ সালে দাখিলে জিপিএ ৩.৭০, ২০১৯ সালে আলিমে জিপিএ ৩.৮৬ এবং ২০২২ সালে ফাজিলে সিজিপিএ ২.৯২ অর্জনের পর সিরাজগঞ্জ আহমেদ কামিল মাদরাসা থেকে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
নীলা বলেন, “ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই মানুষকে থামাতে পারে না। আমি পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করেছি। অনেক চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি, কিন্তু এখনো সুযোগ পাইনি। শিক্ষক হয়ে শিশুদের শিক্ষা দিতে চাই।”
নীলার মা শাহিনুর বেগম জানান, মেয়ের জন্মের সময় দুই হাত না থাকায় পরিবার ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু নীলার অদম্য চেষ্টা ও পরিশ্রমই আজ তাকে উচ্চশিক্ষিত করেছে। অন্যদিকে বাবা উসমান গনি বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এখন তার একমাত্র প্রত্যাশা, মেয়েটি যেন একটি সম্মানজনক চাকরি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও নীলার সংগ্রামের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা এই তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এদিকে নীলার বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. সেলিনা পারভীন জানান, নীলাকে সরকারি নিয়োগে আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং আবেদন-সংক্রান্ত ব্যয় উপজেলা প্রশাসন বহন করবে। পাশাপাশি তার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

নীলার জীবনসংগ্রাম দেখিয়ে দেয়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়—দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসই মানুষকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়। এখন তার অপেক্ষা শুধু একটি চাকরির, যা দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে পূর্ণতা দেবে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে থামছে না আন্দোলন, আরও দুই দাবি পূরণের আলটিমেটাম সিজেপির

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে আন্দোলনের প্রথম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটি জানিয়েছে,...