| Your Ads Here 100x100 |
|---|
রাজধানীতে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একই সময়ে রাজধানীতে একটি সরকারি প্লট ও একটি সরকারি ফ্ল্যাটের সুবিধা গ্রহণ করেন। এছাড়া ফ্ল্যাটের কিস্তি সম্পূর্ণ পরিশোধ এবং ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (NOC) ছাড়াই সেটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী রাজধানীতে একজন ব্যক্তি সাধারণত একটি সরকারি প্লট অথবা একটি সরকারি ফ্ল্যাটের সুবিধা নিতে পারেন। তবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় হামিদুর রহমান খান রাজউকের উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে একটি প্লটের সাময়িক বরাদ্দ পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) জয়নগর ৫২০ ফ্ল্যাট প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাটও বরাদ্দ নেন।
জাগৃকের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের ১৫ নম্বর সেকশনে অবস্থিত জয়নগর ৫২০ ফ্ল্যাট প্রকল্পের ৫ নম্বর ভবনের বি/৪ নম্বর ফ্ল্যাট এবং একটি গ্যারেজ তার নামে বরাদ্দ হয়। প্রথম কিস্তি পরিশোধের পর তিনি ওই ফ্ল্যাটের বিপরীতে ব্যাংক ঋণও গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে ফ্ল্যাটটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব মু. নূরুজ্জামান শরীফের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে জাগৃকের কাছে ‘আম-মোক্তার’ নিয়োগের অনাপত্তি চান। তবে নথিপত্র যাচাই করে জাগৃকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখতে পান, ফ্ল্যাটের সব কিস্তি তখনও পরিশোধ করা হয়নি এবং ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রও নেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রথমদিকে অনাপত্তি আটকে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনাপত্তি সংগ্রহ করা হয়। এদিকে জাগৃকের বরাদ্দ শর্ত অনুযায়ী, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ ও চূড়ান্ত দলিল সম্পাদনের আগে ফ্ল্যাট অন্যের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, রাজউক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সংস্থাটির নবম বোর্ড সভায় হামিদুর রহমান খান উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে একটি প্লটের সাময়িক বরাদ্দপত্র পান। তবে পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তন এবং বিশেষ কোটায় দেওয়া বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের কারণে প্লটটির চূড়ান্ত নিবন্ধন ও বরাদ্দ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর মু. নূরুজ্জামান শরীফও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে ফ্ল্যাটটির অবশিষ্ট কিস্তি এককালীন পরিশোধ করে অন্যত্র হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ডা. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার মূল লক্ষ্য থাকে সরকারি প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া। তার ভাষায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে নিয়মের বাইরে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর যথাযথ তদন্ত হয় না। তাই এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান বলেন, তিনি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছেন এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। এছাড়া প্লট বরাদ্দের বিষয়টি প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, সাবেক যুগ্মসচিব মু. নূরুজ্জামান শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

