ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে দাবানল আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এরই মধ্যে নতুন উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে ‘ফায়ার টর্নেডো’ বা আগুনের ঘূর্ণি, যা দাবানলকে আরও দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে।
ফ্রান্স, গ্রিসসহ দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি দেশে বড় পরিসরে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কিছু এলাকায় আগুনের তীব্র তাপ ও বাতাসের বিশেষ প্রবাহের কারণে ঘূর্ণায়মান আগুনের স্তম্ভ তৈরি হচ্ছে, যা অল্প সময়েই আগুনের বিস্তার বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়র্সেস্টার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গবেষক জেমস আরবানের ভাষ্য, বাতাসের গতিপথ, ভূমির বৈশিষ্ট্য এবং আগুনের বিস্তারের ধরন একত্রে ফায়ার টর্নেডো সৃষ্টি করে। দাবানলের চারপাশ থেকে বাতাস দ্রুত আগুনের দিকে প্রবাহিত হলে ঘূর্ণনের সৃষ্টি হয়। পাহাড়, বনাঞ্চল কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধা এই ঘূর্ণিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, ফলে আগুনের তীব্রতা ও বিস্তার উভয়ই বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার টর্নেডোর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এটি জ্বলন্ত কাঠ, অঙ্গার ও ছাই অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে আগুন হঠাৎ করেই নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা দমকলকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। এতে দাবানলের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং আগুনের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দুটিই বাড়ছে।
বর্তমানে দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ফায়ার টর্নেডোর মতো চরম ও বিপজ্জনক প্রাকৃতিক ঘটনার সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে।