| Your Ads Here 100x100 |
|---|
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং দরপত্র নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বিষয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বদরুল আলম খান বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ
অভিযোগে বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি করা হয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, বদরুল আলম সরকারি দায়িত্বের প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রম, বদলি-পদায়ন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সম্পদের হিসাব এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
বদরুল আলম খানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও দরপত্র কার্যক্রমে প্রভাব রাখতেন এবং একটি ঠিকাদার গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন।
২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের দরপত্রে কমিশন নেওয়া এবং বদলি-পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কয়েকটি ই-জিপি দরপত্র ও সরকারি স্মারকের নম্বর উল্লেখ করে অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
বিপুল সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বদরুল আলম খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকে বিপুল অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। মালিবাগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গুলশানে ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্লটসহ বিভিন্ন সম্পদের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথির সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। কেবল অভিযোগে কোনো সম্পদের কথা উল্লেখ থাকলেই সেটিকে অবৈধ সম্পদ হিসেবে চূড়ান্তভাবে ধরে নেওয়া যায় না।
রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বদরুল আলম খানের সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ দাবিগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগের তদন্ত কতদূর?
অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ও দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বদরুল আলম খান অতীতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন এবং কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সরকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, বদলি-বাণিজ্য এবং পারিবারিক নির্যাতনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন অভিযোগকারীদের বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্তের বক্তব্য, সরকারি নথি, সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক লেনদেন এবং ই-জিপি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা জরুরি।

