যুদ্ধের পর ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তাতে বিস্মিত ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইসরায়েলের মধ্যে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে তৎপর হয় ইরান। ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এ কাজে নতুন ও সৃজনশীল কৌশল ব্যবহার করছে তেহরান।
জেরুজালেম পোস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের হাতে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সময় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়।
ইরানের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করার দাবি করে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত নতুন অস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান।
একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও। গত মে মাসে সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইরান আগের গোয়েন্দা পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ইরান প্রায় ছয় মাসের মধ্যে—অর্থাৎ নভেম্বর নাগাদ—ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে ইরানে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলেও সিএনএনকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র। যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এই সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে ওয়াশিংটনকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরান কীভাবে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা তারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে ও ধারাবাহিকভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা মূল্যায়নও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পুনর্গঠনের গতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে গোয়েন্দা সূত্র ও পদ্ধতি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।