| Your Ads Here 100x100 |
|---|
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরৎপুর ইউনিয়নের শাঁওইল গ্রামে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী সোনারা মেলা এবারও জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের দ্বিতীয় রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলে টানা তিন দিন, যার মূল উৎসব হয় প্রথম দুই দিন। তৃতীয় দিনটি মূলত নারীদের জন্য সংরক্ষিত। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ মেলা শুধুই কেনাবেচার আয়োজন নয়, এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দু। ঈদের পর স্থানীয়রা এই মেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
মেলায় রয়েছে নানা ধরনের দোকানপাট—বড় মাছ, ফলমূল, চুড়ি, কাঠের আসবাব, খেলনা, আলতা, মিষ্টান্ন, রস গোল্লা, আচারসহ হরেক রকমের পণ্যের সমাহার। ছোটদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, চড়কি ও নৌকা দোল। প্রায় ৬০টিরও বেশি খেলনার দোকান রয়েছে মেলায়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আছে জিলাপির পসরা, যা বিক্রি হচ্ছে ৫০টিরও বেশি দোকানে। ঝুড়ি ভাঁজা বা হুরুম এই মেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবছর খাজনা না তোলার ঘোষণা থাকায় অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। মিষ্টি ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম ও আহসান হাবীব জানিয়েছেন, প্রতিবারের মতো এবারও লাভের আশা করছেন তারা। মেলায় আগত দর্শনার্থীরাও আনন্দিত। দুপচাঁচিয়া থেকে আগত তানভীর জানান, মেলার পরিবেশ দারুণ, যদিও ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান না থাকায় কিছুটা ঘাটতি অনুভব করেছেন।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মেলার নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি জনশ্রুতি—যে মেয়ের সোনার গয়না কেনার সামর্থ্য ছিল না, সে পুকুরে ডুব দিলে নাকি সোনা পেত। সেই গল্প থেকেই মেলার নাম হয় ‘সোনারা মেলা’। এই গ্রামীণ মেলা শুধু ঐতিহ্যের বাহক নয়, এটি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও উৎসবমুখর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

