| Your Ads Here 100x100 |
|---|
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সিনিয়র ফুটবলারদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে, ‘হয় কোচ নতুবা আমরা’। অর্থাৎ তারা বর্তমান কোচ পিটার বাটলারের অধীনে খেলতে আগ্রহী নন। এই প্রতিবাদ দলের তারকা ফুটবলার সাবিনা, সানজিদা, শামসুন্নাহার, ঋতুপর্ণা, মাসুরা ও মনিকা সহ মোট ১৮ জন ফুটবলারের একত্রিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফুটবলাররা তাদের অসন্তোষের কথা জানান। তাদের অভিযোগ, কোচ পিটার বাটলার তাদের মাঠ এবং মাঠের বাইরে একাধিকবার মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করেছেন। বডি শেমিং, বৈষম্য, গালিগালাজসহ নানা অশোভন আচরণে তারা অত্যন্ত হতাশ। সাবিনা খাতুন, দলের অধিনায়ক, কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “কোচ আমাদেরকে মানুষ হিসেবে ছোট করে দেখছেন, আমাদের পোশাক নিয়ে কথা বলছেন, এবং আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাজে মন্তব্য করছেন।”
ফুটবলাররা বলেন, “কোচের আচরণের কারণে ক্যাম্পে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।” দলের ভেতর গ্রুপিং এবং কোচের একগুঁয়ে সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষ করে জুন মাসে, কোচ বাটলার সিনিয়র ফুটবলারদের বেঞ্চে বসিয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা বিতর্কের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনও পিটার বাটলারের পক্ষ নিয়েছে। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছেন, “এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।” বাফুফে তাদের সদস্যদের মাঝে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে, বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান বলেছেন, “বাংলাদেশ ফুটবল কারো হাতে জিম্মি নয়।”
সাবিনা, সানজিদা ও অন্যান্য ফুটবলারদের দেওয়া তিন পৃষ্ঠার লিখিত বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “যদি পিটার বাটলারকে রেখে আমাদের চুক্তি নবায়ন না হয়, তবে আমরা একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবো।” তারা আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করতে চাই।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহের মূল কারণ কোচ পিটার বাটলারের আচরণ। যদিও বেশ কিছু সিনিয়র ফুটবলার এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও ১৭-১৮ জন ফুটবলারের মধ্যে আসল সমস্যা মূলত ৩-৪ জনের সাথে কোচের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে কোচের সিদ্ধান্তের কারণে বেঞ্চে বসিয়ে দেওয়া এবং তাদের ওজন কমানোর নির্দেশনা, যা ফুটবলারদের কাছে বডি শেমিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ভবিষ্যতে কী করবে? এই বিদ্রোহ এবং কোচের সাথে বিরোধের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে? সাফ ২০২৪ জয়ী নারী ফুটবলারদের মেধা এবং পরিশ্রমের পরেও, তাদের বিরুদ্ধে এমন অসন্তোষ ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

