আব্বু,আম্মু যখন হসপিটালে যায় তখন ইমার্জেন্সীর বাইরে সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখা একটা মৃত মানুষ রাখা ছিলো।সেই মৃত মানুষ পাশ কাটিয়ে আম্মু চলে যায় এবং ইমার্জেন্সিতে গিয়ে সবাইকে বলতে থাকে,
”আমার ছেলে কই? আমার ছেলেকে দেখান।”
তখন কি ওই সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখা মানুষ চিৎকারে করে জানানোর চেষ্টা করেছে যে,
”আম্মু আমি তো এখানে,তুমি কেন আমাকে ওইদিকে খুঁজতেছো।”
যখন ডাক্তার এসে জানাইছিল,”মা,আপনার ছেলে হসপিটালে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে।”
আম্মু বিশ্বাস করে নাই।বারবার জয়কে দেখতে চাইছে কিন্তু আম্মুকে দেখতে দেয় নাই।স্ট্রেচার ভর্তি রক্ত।সেই রক্ত আম্মু দুহাত দিয়ে তুলে বুকে জড়ায়ে নিচ্ছিল।
আব্বু বলল,
”জয় একটু ব্যথা পাইছে,ওরে নিয়ে আমরা বাসায় আসতেছি।তুমি বাসায় থাকো।”ওই মুহুর্তে আমার এক কাজিন আমাকে ফোন দিয়ে বলে,
”শিমু,জয় নাকি মারা গেছে,এটা সত্যি?”
একথা শুনে আমি এত রাগ হয়ে গেলাম।রাগে ফোন ই কেটে দিলাম।আব্বু তো আমাকে একটু আগেই জানালো জয় ভালো আছে।জয় বাসায় আসলে কি কি করবো সেটাও মনে মনে ঠিক করে রাখলাম।বাসার নিচে এম্বুলেন্স আসলো।এরপর শুনি আম্মু চিৎকার করে কান্না করছে।আমার তখন জ্ঞান আসলো।দৌড় দিয়ে নিচে নামলাম।আমাকে দেখে আম্মু বলতেছিলো,
”ভাই আর নাই মা,ভাই আর নাই।”
ওই কথা এখনো আমার কানে বাজে।আম্মুর ওই কথার পর সত্যিই আমার ভাই নাই হয়ে গেল।এই যে একবছর হয়ে গেল আমার ভাই তো আর ফিরে আসলো না,আর কখনো আসবেও না।জয় এত ভালো একটা বাচ্চা ছিলো বলে বুঝানো যাবে না।ওর মত ভালো মানুষকে আল্লাহ যেন ফুলের টোকাও না দেন।আল্লাহ যেন ওরে অনেক ভালো রাখে।