সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার অভিযোগ থেকে শুরু করে ইয়েমেনে ভয়াবহ হামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা দখলের গল্প অত্যন্ত নাটকীয়। মাত্র ৯ বছর আগে পর্যন্ত রাজনীতিতে তার নাম বিশেষ পরিচিত ছিল না, কিন্তু এখন তিনি সৌদি আরবের একক ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব।
বাদশাহ আবদুল্লাহর অসুস্থতার সময় শুরু হয় ক্ষমতা লড়াই। তার মৃত্যুর পর বাদশাহ সালমান ক্ষমতায় আসেন এবং প্রথমে তার সৎভাই মুকরিনকে যুবরাজ করেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে মুকরিনকে সরিয়ে দিয়ে যুবরাজ হন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান) পযে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ও ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্সের দায়িত্ব।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে আসার পর থেকে তিনি রাজপ্রাসাদে নিজের প্রভাব বাড়াতে থাকেন। বাবাকে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা করে গৃহবন্দি করেন, এমনকি বাবার স্ত্রী ও দুই বোনকেও নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা পরিচালনা করেন, যা প্রথমে প্রশংসিত হলেও পরে সমালোচিত হয়। জুনে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গৃহবন্দি করে নিজের স্থানে বসেন এমবিএস। এরপর তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষমতা গ্রহণ করে বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ হাতে নেন।
২০১৮ সালে নারীদের ড্রাইভিংয়ের অনুমতি দিলেও সেটা মূলত অর্থনৈতিক কারণে ছিল, সামাজিক উন্নয়নের জন্য নয়। রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও মতামতকে উপেক্ষা করে একক শাসন চালাতে থাকেন তিনি।
তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তদন্তে সিআইএ জানিয়েছে, হত্যার নির্দেশ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় বসার পর রাজপরিবারের শতাধিক সদস্য, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেন তিনি।
আজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কেউ দূরদর্শী সংস্কারক মনে করেন, আবার কেউ স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করেন। তবে সন্দেহহীন বিষয় হলো, তিনি সৌদি আরবের ক্ষমতার একক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।