তামান্না খানম বর্তমানে বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার সাকলিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন । তাকে প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে যেতে হয় স্কুলে।
স্থানিয় বাসিন্দারা জানান, উনি যেভাবে স্কুলে যান সেটা কারো পক্ষে সম্ভব না, যে কোন সময় উনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তামান্না খানমের সহকারী শিক্ষকদের একজন জানান, আমরা উনাকে বলেছি বদলি নিতে কিন্তু তিনি পারছেননা, আমি ৪ কিলোমিটার দূর থেকে আসি এতেই আমার শরীর ব্যথা হয়ে গেছে আপা আসেন ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে, এটা অমানবিক। এতোদূর থেকে আসা যাওয়া করা অসম্ভব।
শিক্ষিকা তামান্না খানমের সাথে কথা বলে জানা যায় – তার কর্মস্থলটি চট্টগ্রাম শহর থেকে অনেক দূরে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত ।যা তার জন্য শারীরিকভাবে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন- নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য আমাকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। উপরন্ত আমি দীর্ঘদিন যাবৎ হাঁটু ও কোমরের ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছি, ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থেকে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা আমার জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার নিয়মিতভাবে ও যথাসময়ে আমাকে থেরাপি নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন – ইতিমধ্যে আমি ডিজি মহোদয় বরাবর বদলির জন্য আবেদন করেছি ।
যেহেতু , আমার পরিবার বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছে। আমার স্বামীও চট্টগ্রাম শহরেই চাকরিরত। এছাড়া আমার স্বামী এক্সিডেন্ট করে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করছে । দূরে থাকার কারনে আমি স্বামীর সেবা যত্নও করতে পারছি না ।
আমাদের তিন সন্তান চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে ইসতিয়াক আহমদ দিহান, ৩য় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত, দারুল মারিফ আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া মাদরাসা, চট্টগ্রাম। ছোট ছেলে ইতকান আহমদ রাইয়ান, সার্সারিতে অধ্যয়নরত, আল তালিমুন নববী আলিম মাদরাসা, চট্টগ্রাম। মেয়ে তাসনীম সুলতানা দিয়া, ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত, আল হুমায়রা (রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহা) মহিলা ফাযিল মাদরাসা, চট্টগ্রাম।
সভানরা অল্প বয়সী হওয়ায় তাদের পড়াশোনা, লালন-পালন ও সঠিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে আমার চট্টগ্রামে অবস্থান করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আমার স্বামী চট্টগ্রামে কর্মরত থাকায় পরিবারের সকল দায়িত্ব, সন্তানদের স্কুলে যাওয়া-আসা ও তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা আমার একার পক্ষে অসম্ভব। তদুপরি, আমার চিকিৎসার নিয়মিত ফলোআপও চট্টগ্রামে করাতে হয়। ফলে, এমন পরিস্থিতিতে আমি চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও দূরবর্তী বান্দরবান জেলার কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এমতাবস্তায় তামান্না খানমের আর্জি, উপরে উল্লেখিত মানবিক কারণসমূহ বিবেচনা করে যেন সাকলিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে অথবা নিকটবর্তী আনো য়া রা, কর্ণফুলী ও বোয়াল খালী উপজেলার যে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ডেপুটেশন দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।