- Advertisement -
| Your Ads Here 100x100 |
|---|
খবরের দেশ ডেস্ক :
কক্সবাজারে দীর্ঘদিনের বাস কাউন্টার বিশৃঙ্খলা, যাত্রী ভোগান্তি আর পর্যটক হয়রানির চিত্র বদলে দিয়েছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক, অপরাধ ও প্রশাসন) মো. জসিম উদ্দীন। তার উদ্ভাবিত OBT (Online Bus Terminal) ও CoxCab প্রকল্প এখন জেলার প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার রোল মডেল।
বিশ্বস্ত সুত্র মতে, পুলিশে চাকরির শুরু থেকেই জসিম উদ্দিনের জনবান্ধব পুলিশ বিনির্মাণের প্রতি একটি বিশেষ টান ছিল । সবসময় সেবা এবং সৃজনশীল ভাবনায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন । পুলিশের প্রতি ইতিবাচক ও আস্থাশীল থাকার পথকে মসৃণ রেখেছেন । এখন দীর্ঘদিন কক্সবাজারে চাকরি করার পর বদলি জনিত কারনে রাঙামাটিতে যাচ্ছেন জসিম উদ্দিন । তার এই বদলি মানতে পারছেননা কক্সবাজারবাসী । অনেকেই নীরবে চোখের জল ফেলছেন।
কক্সবাজার একটি পর্যটন এলাকা, ভ্রমন পিপাসু লক্ষ লক্ষ মানুষ কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন কিন্তু কক্সবাজারে পরিবহন ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে সেবা মানের কিছুটা ঘাটতি থাকায় জসিম উদ্দিন সেখানে কিছু আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে আলোচনায় আসেন । জসিম উদ্দিনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মধ্যে ছিল 0BT (ওবিটি) । যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক ।
OBT চালুর আগে বাস কাউন্টারগুলোতে প্রতারণা, অনিয়ম আর যাত্রী হয়রানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অনলাইনে সার্ভিস, সময়সূচি ও টিকিটের তথ্য পাওয়ার সুবিধা চালু করে তিনি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরান।
পর্যটকদের জন্য চালু করা CoxCab সেবার মাধ্যমে নিরাপদ টমটম যাত্রা নিশ্চিত হয়। নারীরা বা একা ভ্রমণকারীরা অ্যাপে কল দিলেই পুলিশের নজরদারিতে ক্যাব পৌঁছে যেত গন্তব্যে। এ কারণে পর্যটকদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন জসিম উদ্দীন।
সম্প্রতি ওবিটি নিয়ে জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমে বলেছিলেন- উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে যাত্রীদের নিরাপত্তায় গণ পরিবহনে “ইমার্জেন্সি এলার্ম বাটন” সিস্টেম থাকে। সম্প্রতি গণ পরিবহনে সংঘটিত কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। ডিভাইস ইনস্টলেশন করে এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে ন্যুনতম ৫০কোটি টাকার প্রজেক্ট নিতে হবে। সেই কাজটি ডিজিটাল সিস্টেমে আরও ব্যবহার উপযোগী করে “অনলাইন বাস টার্মিনাল” সিস্টেমে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওয়েব সিস্টেমে লোকেশন ট্র্যাকিং করা গেলেও এপস সিস্টেমে মুভমেন্টও ট্র্যাকিং করার সুযোগ রয়েছে। সরকার বাহাদুর আমাদের এই উদ্যোগের দিকে সুদৃষ্টি দিলে ভবিষ্যতে ওবিটি কে এপস সিস্টেমে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
বদলির কারণে এই জনবান্ধব কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থল রাঙামাটিতে যোগ দিচ্ছেন। তার বিদায়ের খবরে কক্সবাজারজুড়ে চলছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। অনেকেই কাদছে তার বদলিতে। রিকশাচালক থেকে ব্যবসায়ী—সবাই বলছেন, জসিম উদ্দীন শুধু প্রশাসক নন, একজন উদ্ভাবকও ছিলেন। ইতিমদ্ধে ফেসবুক পরিণত হয়েছে এক শোক গ্রন্থে ।
ফেসবুক জুড়ে নেটিজেনরা লিখেছেন –
”স্থানীয়রা একবাক্যে স্বীকার করছেন—“তার হাত ধরে কক্সবাজার পেয়েছিল নিরাপদ পরিবহন আর সুশৃঙ্খল পর্যটন পরিবেশ।”
”জসিম সাহেব ওনেক বড় মনের মানুষ এবং ভালো মানুষ আমি ওনাকে নোয়াখালী জেলা থেকে চিনতাম এবং তখন উনি এএসপি ছিলন খুব ভালো মানুষ উনার জন্য দোয়া এবং শুভকামনা রইল”
”আমাদের বাঁশখালীর গর্বিত সন্তান জসিম উদ্দিন ভাই। একজন নিবেদিত প্রান তিনি। আল্লাহ, তাকে সম্মানিত করুক। নতুন কর্মস্থলের জন্য শুভ কামনা”

