রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ এলাকার কাছে দুটি ড্রাম থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বন্ধু জরেজুল ইসলাম (জরেজ) এবং জরেজের প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও ডিবি পুলিশ। র্যাবের দাবি, প্রেমিকা শামীমাকে ব্যবহার করে জরেজ আশরাফুলকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখে, আপত্তিকর অবস্থার ছবি তোলে এবং আর্থিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে ড্রামে ফেলে গুম করার চেষ্টা হয়।
শাহবাগ থানায় নিহতের বোন আনজিনা বেগম জরেজসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্তের শুরু থেকেই জরেজকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকায় হত্যার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুরের বদরগঞ্জে আশরাফুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের দাবি, বন্ধু জরেজ সম্প্রতি জাপান যাওয়ার জন্য আশরাফুলের কাছে ১০ লাখ টাকা চাইছিল। হত্যার আগের দিন আশরাফুল বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রি করেছিলেন এবং জরেজের সঙ্গেই ঢাকায় যান।
স্থানীয়রা বলেছেন, আশরাফুল ভালো ও নিরীহ মানুষ ছিলেন। কেন এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
পুলিশ বলছে, রায়ের দিন রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ঈদগাহের পাশে ড্রামে লাশ ফেলে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক।