কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো দূরত্ব নেই; বরং তাকে তিনি মায়ের মতোই সম্মান করেন। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জায়গায় তার সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন,
“আসলে শেখ হাসিনা আমার মায়ের মতো। পৃথিবীতে আমার মায়ের চাইতে সম্মানী কেউ নেই আমার কাছে। আমার বড় দুই ভাইবোন মারা গেছেন। ছোটদের মতো তিনজন বোন আছে, কিন্তু কোনো বড় বোন ছিল না—সেই অভাবটা তার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“জন্মদিনে দেখা যায়, শেখ হাসিনা আমার থেকে তিন-চার মাসের ছোট। তাকে শতবার পায়েহাত দিয়ে সালাম করেছি—রাজদরবারে হোক, জনপথে হোক বা ঘরে। নিজের ভাইবােনদের যেভাবে ভালোবাসি, তাকেও সেভাবেই ভালোবাসি—এখনো ভালোবাসি।”
ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন,
“তিনি যখন দেশের সরকার প্রধান হলেন, তখন সবার জন্য তার দায়িত্ব ছিল—চোরের জন্যও। কিন্তু তিনি তা গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেননি। এতে আমার দূরত্ব আছে।”
শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিএনপি-জামায়াত ইস্যুর অবিরাম উপস্থিতিকেই তিনি রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার আরেক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন:
“আমি তাকে বহুবার বলেছি, ছয় মাস শুধু ‘বিএনপি-জামায়াত’ বলা বন্ধ করুন। দেখবেন, সরকারের জনপ্রিয়তা ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। মানুষ অযৌক্তিক কথা মানতে চায় না। সেই জায়গায় আমার তার সঙ্গে দূরত্ব আছে।”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার ছাড়া অন্য কোনো পথ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আসবে, আইনের মধ্য দিয়েই প্রতিকার হতে হবে। তিনি আইনের ঊর্ধ্বে—এটাকে আমি মানব না। আবার তাকে আইন ছাড়া বিচার করা—এটাও সমর্থন করি না।”
বর্তমানে বিভিন্ন মহলে যে দাবি করা হচ্ছে—শেখ হাসিনা ‘পালিয়ে গেছেন’—এটিকে তিনি ব্যাকরণগত ও বাস্তবিকভাবে ভুল বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়,
“শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর বিমানে গেছেন, এবং ভারতে সামরিক বিমানঘাঁটিতে নেমেছেন। পালিয়ে গেলে তিনি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে যেতেন কিংবা অন্য হেলিকপ্টারে উঠতেন।”