দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারত–এর বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পানি সংকট এবং বিদ্যুৎ সমস্যার মতো সংকট বাড়ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চরম আবহাওয়া এখন আর সাময়িক নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি দক্ষিণ এশিয়ার নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। দিনের বেলায় কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও পরিবহনকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অতিরিক্ত গরমে দিনের ব্যস্ত সময়গুলোতে মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতে রাজস্থান, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন হিটওয়েভ সতর্কতা জারি করেছে। অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে, পানির সংকট তীব্র হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচি, যা সাধারণত সমুদ্রবায়ুর কারণে তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, সেখানেও এবার তাপপ্রবাহ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শহরটিতে ৪৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে—যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের এলাকাগুলোতে। করাচির উপকূলীয় এলাকা ইব্রাহিম হায়দেরির বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। মাছধরা পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
স্বাস্থ্যখাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও দূষিত পানির কারণে শিশুদের মধ্যে এসব রোগ বেশি দেখা দিচ্ছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এই ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। World Weather Attribution–এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শীতকাল ছোট হয়ে আসছে এবং গ্রীষ্ম দীর্ঘ ও তীব্র হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা শহরজুড়ে বৃক্ষরোপণ, কুলিং সেন্টার স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।