কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গুলির ঘটনায় বিদেশি অস্ত্রসহ জিয়াউল হক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মঈন উদ্দিন ও রনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিয়াকত আলী নামে এক বিএনপি নেতা তার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। লিয়াকত আলী কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি সদস্য।
ঘটনার পর জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামে একজনকে আটক করে আদালতে উপস্থিত লোকজন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকায়।
শেখ মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি, জানান—আদালত এলাকায় গুলি চালিয়ে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়। অন্য অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ লিয়াকত আলীর ছোট ভাই মোহাম্মদ জায়েদ দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই আদালত প্রাঙ্গণে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কয়েকজন মোটরসাইকেল ও একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়।
এদিকে মো. অহিদুর রহমান, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান), বলেন—ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।