ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা-এ ঈদুল আজহার দিন কোরবানির মাংস সংগ্রহ করতে গিয়ে জীবনের নির্মম বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ষাটোর্ধ্ব সখিনা বিবি।
ঈদের দিন সন্ধ্যার আগে নান্দাইল থানার সামনে একটি মার্কেটের সামনে বসে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরার কোনো ঈদ নাই। ঈদের দিন বাড়ি বাড়ি ঘুইর্যা যা পাই, তা রাইন্দা খাই।”
সখিনা বিবি উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৩০ বছর আগে তার স্বামী সইরত আলী মারা যান। নিজের কোনো ভিটেমাটি না থাকায় অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটছে তার। সরকারি বিধবা ভাতার সামান্য টাকায় কোনোভাবে জীবন চলছে।
তিনি জানান, দুই ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আরেক ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন এবং নিয়মিত দেখাশোনা করতে পারেন না। সখিনা বিবির ভাষায়, “হেরারেই তো চলে না, নাতিডা আমার লগে থাহে। আমারে কিবায় খাওয়াইব।”
ঈদের দিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সময় অপমানেরও শিকার হতে হয় বলে জানান তিনি। কেউ সামান্য মাংস দেন, আবার কেউ ফিরিয়েও দেন। তার কথায়, “এক টুরহা কইর্যা দিলে কয় টুরহা অয়?”
পরে এক প্রতিবেদক তাকে একটি শাড়ি কিনে দিলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সখিনা বিবি। গাড়িতে ওঠার সময় আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “বাজান, তুমার লাইগ্যা দোয়া করবাম।”