রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন-এর আদালতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন।
জবানবন্দিতে আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার খবর পেয়ে তিনি অফিস থেকে বাসায় ফিরে আসেন। বাসার সামনে অনেক মানুষ জড়ো হতে দেখে দ্রুত ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা হাতুড়ি দিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢোকেন। এরপর কমন রুমের দরজাও ভাঙা হয়। সেখানে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার-কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রামিসার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি বলে আদালতকে জানান রামিসার বাবা।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত সোহেল রানা-র কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পান।
এদিকে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দেবেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীকে তালিকাভুক্ত করেছে।