বগুড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মারা গেছেন। রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগে হাজতখানার বাথরুম থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় বাইরে না আসায় দায়িত্বরত সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে লুঙ্গির ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, হাজতখানার বাথরুমে স্থাপিত সিসিটিভিতে পুরো ঘটনাটি ধারণ হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দিতে অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নান মোল্লাকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৯৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবি হেফাজতে একজন আসামির মৃত্যুর ঘটনায় চূড়ান্ত সত্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সংরক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।