| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ঢাকা সেনানীবাসে খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পে বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এসব কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া পিএইচডি সনদ ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি, জ্যেষ্ঠতা অতিক্রম করে পদায়ন, বদলি-পদায়ন ও টেন্ডার নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত বা সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
সেই সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের বহুতল ভবন নির্মাণের বিভিন্ন কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনসহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এরপর ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে ওঠে ভুয়া পিএইচডি সনদ ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার শাস্তি দেওয়া হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এর কয়েক বছর পরই তিনি পান ধারাবাহিক পদোন্নতি। ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং একই বছর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি।
এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব এবং পরে চলতি দায়িত্ব পান খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এই পদায়ন নিয়ে দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতা অতিক্রমের অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ একাধিক প্রকৌশলীকে পাশ কাটিয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়মিত করার প্রক্রিয়াতেও তার নাম শীর্ষে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে পছন্দের কর্মস্থলে বদলির ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে—এমন দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
২০২৬ সালের ৩ মার্চ একদিনে বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন ওঠে। পরে এসব বদলির বড় একটি অংশ বাতিল করা হয়।
শুধু বদলি নয়, বড় প্রকল্পের কয়েকটি টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের নামেও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এরই মধ্যে দুর্নীতি, নথি জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এত অভিযোগের মধ্যেও কীভাবে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?
আর তাকে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলী করার প্রক্রিয়ায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিই বা কতটা শক্ত?
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাই তদন্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এসব বিষয়কে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

