| Your Ads Here 100x100 |
|---|
মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের জন্য নেওয়া প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ—আর সেই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন।
অভিযোগ উঠেছে, হাজার হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণের কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে অনেক কম। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি শতভাগ দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পে মোট ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।
কিন্তু প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪ হাজার ৩৭১টি সমাধিস্থল নিয়ে প্রকল্পের সমাপ্তি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, প্রকল্পটির সংশোধিত প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কাজের পরিমাণ এবং কাগজে-কলমে দেখানো অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। এমনকি কয়েকজনের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে আরও কমসংখ্যক কবরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রকল্পের বিল, পরিমাপ বই, কাজের ছবি, ঠিকাদারি নথি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নিয়েও দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেছে।
এদিকে কাজী ফিরোজ হাসানের দীর্ঘদিন ঢাকাকেন্দ্রিক পোস্টিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রকৌশলী।
তাদের অভিযোগ, চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী—সংস্থাপন ও সমন্বয় পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই পদটির সঙ্গে অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও যুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরে লটারির মাধ্যমে ব্যাপক বদলি কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের একটি অংশের দাবি, বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা আনার নামে নেওয়া সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক ও প্রকল্পের ধারাবাহিকতার বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রকল্পে প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য, বাস্তব কাজ এবং ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না?
তা জানতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বক্তব্য জানতে তার দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাই এখন সংশ্লিষ্টদের দাবি—প্রকল্পের পুরো নথিপত্র যাচাই করা হোক, মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন করা হোক এবং অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

