31 C
Dhaka
শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬

লটারির বদলিতে ভেঙে পড়েছে গণপূর্তের ‘চেইন অব কমান্ড’

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

গণপূর্ত অধিদফতরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে একযোগে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন সংস্থাটির প্রকৌশলীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বদলি আতঙ্ক।

শুধু উপসহকারী প্রকৌশলী নয়, একই পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে ই/এম শাখার তিন শতাধিক এবং সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর ছয় শতাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হতে পারে—এমন খবরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনে লটারির মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীর নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১৭ জন, রাজশাহীতে ৭৩, চট্টগ্রামে ১৩৩, খুলনায় ৭৪, বরিশালে ৪৪, সিলেটে ৩৩, ময়মনসিংহে ২৯ এবং রংপুরে ৬৪ জনকে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান ও তার আরেক সহযোগী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সারোয়ার আলম নিজেদেরকে অতিরিক্ত সৎ আর নিজেদের দূর্নীতি আড়াল করতে এই লটারির পরামর্শ মন্ত্রণালয়কে প্রদান করে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে বদলির উদ্দেশ্য হিসেবে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি সামনে এলেও, এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রকৌশলীদের একটি বড় অংশ।

তাদের দাবি, এ ধরনের পদ্ধতি বিদ্যমান বদলি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে ‘চেইন অব কমান্ড’ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি দাফতরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের প্রশ্ন—একজন প্রকৌশলী ভালো পারফরম্যান্স করে দায়িত্ব পালন করলেও যদি শেষ পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় বদলি হতে হয়, তাহলে ভালো কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ বা প্রতিযোগিতার জায়গাটি কোথায়?

তাদের দাবি, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করে বদলি ও পদায়ন করা হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভালো কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু লটারিতে যেকোনো কর্মকর্তা যেকোনো জায়গায় পদায়িত হলে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, মন্ত্রণালয় সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে গিয়ে পুরো অধিদফতরে বৈষম্যের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

প্রকৌশলীদের আরও অভিযোগ, বদলির সময় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে একই বা কাছাকাছি কর্মস্থলে রাখার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।এদিকে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক বদলির কারণে অনেক কর্মকর্তার সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর সমিতির সভাপতি বলেন,আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয় এবং বদলি নীতিমালা অনুযায়ী হতে হয়। শুনেছি বদলি বাণিজ্য বন্ধ এবং অনৈতিক তদ্বির পরিহারের নিমিত্তে কতৃপক্ষ লটারির প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় অনেকেই অকালীন (আনডিউ) সময়ে বদলি হয়েছে এবং মানবিক বিষয় বিবেচনায় আসেনি। আমরা অকালীন বদলিতে ক্ষতিগ্রস্হ ও মানবিক বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করব। আমরা বিশ্বাস করি, পূর্ত অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়ের অভিভাবকগণ ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে যাচাই স্বাপেক্ষে পুনর্বিবেচনা করবেন।

গণপূর্ত অধিদফতরের আওতায় সচিবালয়, বঙ্গভবন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি মেরামতের দায়িত্ব রয়েছে।

তাই একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে বদলি করলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চলমান কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকৌশলীদের দাবি—স্বচ্ছতা ও সমতার নীতি যদি সত্যিই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তা শুধু উপসহকারী প্রকৌশলী নয়, প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে অধিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা একটি সুস্পষ্ট ও লিখিত বদলি নীতিমালা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই কর্মকর্তাকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় বদলি না করা এবং পারিবারিক ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে ইরান, উদ্বেগে ইসরায়েল

যুদ্ধের পর ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তাতে বিস্মিত ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে দেশটির...