30.4 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

শিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

শিক্ষকদের সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের পাশাপাশি তাদের সম্মান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউনহলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সংবর্ধনা ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শুধু এসব সুবিধা নিশ্চিত করলেই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে, শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিবাহ, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রমের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকেরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেন। শিক্ষকদের এই সামাজিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এসব শিশুর জন্য শুধু শিক্ষক নিয়োগ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের অভিভাবকদের প্রয়োজন, সীমাবদ্ধতা ও কষ্টের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর যত্ন ও বিকাশের জন্য অনেক সময় একাধিক ব্যক্তির সহায়তা প্রয়োজন হয়। তাই এসব শিশুর শিক্ষা ও পরিচর্যার পরিকল্পনা করার সময় তাদের পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ের উদ্দেশ্য ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া নয়, বরং ইতিহাসকে সঠিকভাবে তুলে ধরা। দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশের অতীত, সংগ্রাম ও অর্জন সম্পর্কে জানতে পারে।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের অর্জন তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র যখন একজন শিক্ষককে স্বীকৃতি দেয়, তখন সমাজের প্রতি তার দায়িত্বও বেড়ে যায়। শিক্ষকসমাজকে সম্মান জানানো জাতির দায়িত্ব। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কাছেও জাতির প্রত্যাশা অনেক।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। সরকার, শিক্ষকসমাজ ও অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে আসে। তাই জনগণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ এবং সেই অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য কী ধরনের দেশ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সরকার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের চিন্তা করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার।

সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সাফল্য, দেশে উপেক্ষিত বিদেশে প্রশংসিত

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। নির্বাচনে আরব দলগুলোর...