| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আশপাশের এলাকায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে উদ্ধারকাজ চলাকালে উদ্ধারকর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
হুথি বিদ্রোহীদের সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সানা প্রদেশের আল-সারিয়াহ এলাকায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলার পর উদ্ধারকাজ চলাকালে প্যারামেডিকদের ওপর দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া শহরের একটি বাজারে হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায় হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সৌদি আরবের বিমান থেকে বাজারটিতে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়।
হুথি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসাবাহি শুক্রবারের ওই হামলার পর সংবাদ সংস্থা সাবাকে বলেন, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান আল-ওয়াজিয়া শহরের বাজারে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি বিমান থেকে আল-ওয়াজিয়ার বাজারে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে বাজারে হামলার ঘটনায় ভিন্ন দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তাদের বক্তব্য, বাজারটিতে হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ওই বিস্ফোরণেই ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ফলে হামলার প্রকৃত ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে।
আল-ওয়াজিয়া শহরটি তাইজ প্রদেশে অবস্থিত এবং বর্তমানে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন। গত সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে বড় আকারে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী।
এর জবাবে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। বর্তমানে এই সরকার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
দুই পক্ষের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তাইজ প্রদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানা বর্তমানে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির চলমান সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

