29.3 C
Dhaka
রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

গরমে স্বস্তির স্বাদ তালের শাঁসে

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

 

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ্য। চারদিকে অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এই গরমে শরীর ও মনের প্রশান্তির উৎস হতে পারে তালের শাষ। পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও আরামদায়ক এই ফল পছন্দ করেন সব বয়সী মানুষ।

তালের শাষ মূলত জ্যৈষ্ঠ্য মাসেই বেশি খাওয়া হয়। গ্রীষ্মের এই সময় শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে ও তাৎক্ষণিক তৃপ্তি দিতে তালের শাষের তুলনা নেই। শতভাগ প্রাকৃতিক এই ফলের প্রতি চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ গ্রাম তালের শাষে রয়েছে ৭৭.৫% জলীয় অংশ, ২০.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৮ গ্রাম আমিষ, ০.৮ গ্রাম খনিজ পদার্থ এবং ০.৫ গ্রাম আঁশ। এতে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালোরি শক্তি এবং ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। যা হাড় গঠনে সহায়ক এবং হজম প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় তাল গাছ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে, নওগাঁ ও নাটোর থেকে অধিকাংশ তাল আমদানি করা হয়। তবে ছাতিয়ানগ্রাম, নশরতপুর ও কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নে কিছু তালগাছ দেখা যায়। মৌসুমের শুরুতেই বিক্রেতারা গাছওয়ালাদের কাছ থেকে তাল কিনে রাখেন, পরে তা বাজারে বিক্রি করেন।

তালের শাষ বিক্রি করে অনেকেই মৌসুমী আয় করছেন। যেমন অন্তাহার গ্রামের মিঠু মিয়া জানান, “এক মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। বছরের বাকি সময় কাঁচা তরকারির ব্যবসা করি।” অন্যদিকে, তাল গাছে ওঠা, কাঁদি কাটা এবং চুরি প্রতিরোধে নিতে হয় নানা সতর্কতা। শিবপুর গ্রামের জুয়েল বলেন, “ভেজা গাছে উঠলে পা পিছলে পড়ার ভয় থাকে। আবার ছোট গাছে সাপও দেখা যায়।”

সান্তাহার রেলগেটে বিক্রেতা মাসুদ রানা ইশারায় জানান, “এক চোখ শাষ বিক্রি করছি ৫ টাকায়, পুরো তাল ১৫ টাকায়।” অন্য দোকানিরা জানান, পাইকারি দরে তাল পাওয়া যায় ৪–৫ টাকায়, আর খুচরায় বিক্রি হয় ৭–৮ টাকা করে। একটি বড় তাল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

শহরের তুলনায় গ্রামে তালের শাষ খাওয়ার প্রচলন বেশি। গরম দুপুরে বা বিকেলে ছেলে-মেয়েরা দল বেঁধে গাছতলায় ভিড় করে তালের শাষ খেতে। সহজলভ্যতা, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে এটি একটি লোকপ্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে।

তালের শাষ শুধু গ্রীষ্মের ক্লান্তি দূর করে না, বরং বহু মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবেও কাজ করছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এই পেশায় এগিয়ে আসছেন। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ফল আগামী দিনেও মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয় থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি নিয়ে এবার নেপথ্যের তৎপরতা তুঙ্গে। লটারির মাধ্যমে বদলি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পছন্দের কর্মস্থল ধরে...