দেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি হাওর জেলা জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে এবার টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে এসব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
সরকারি হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে, যদিও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি ক্ষতির পরিমাণ ৮০ হাজার হেক্টরেরও বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে প্রায় আড়াই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটির বেশি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত আড়াই লাখ টন বোরো ধানের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলে সামান্য ক্ষতিও জাতীয় চালের বাজারে বড় প্রভাব ফেলে, কারণ দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। উৎপাদন কমে গেলে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা চাপের মুখে পড়তে পারে।
কৃষকরা বর্তমানে তিন ধরনের সংকটে আছেন—ফসলহানি, শ্রমিকের উচ্চ মজুরি এবং বাজারে ধানের কম দাম। অনেকেই বাধ্য হয়ে আধাপাকা বা ভেজা ধান কাটছেন, যা থেকে ভালো মানের চাল পাওয়া কঠিন। অন্যদিকে হারভেস্টার ও শ্রমিকের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে দ্রুত পরিকল্পনা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি সহায়তা, ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ এবং আগামী আমন মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে খাদ্য মজুত ও আমদানি নীতিতেও সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।