ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনার ফল নয়; বরং এটি লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষকে সাহস ও দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।
বুধবার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)তে সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি পবিত্র জাতীয় অঙ্গীকার। দেশপ্রেমকে কেবল আবেগ নয়, বরং শৃঙ্খলা, সততা, আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হয়।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জাতীয় সংকটেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে থেকেছে। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বাহিনী দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
আধুনিক যুদ্ধের ধরন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ড. শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ শুধু ট্যাংক বা কামানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই সামরিক নেতৃত্বকে প্রযুক্তি ও কৌশলগত যোগাযোগেও দক্ষ হতে হবে।
তিনি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এটি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমআইএসটির প্রশংসা করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র। তিনি দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্বল্প ব্যয়ের ড্রোন, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থা ও তথ্য বিভ্রান্তি মোকাবিলায় গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব। সব প্রযুক্তি বিদেশ থেকে কিনে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা শুধু কমান্ডার নন, তিনি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে থাকা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা একজন কর্মকর্তার মৌলিক দায়িত্ব।