দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বডি ক্যামেরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা পরিচালনার জন্য দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকের মতে, এমন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও তারা চান পরীক্ষা যেন সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র যেন অতিরিক্ত কঠিন বা সহজ না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হয়, সেই প্রত্যাশাও জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্রের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য বিবেচনায় রেখে প্রশ্নের মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে উপযোগী প্রশ্ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে শুধু ওই এলাকার নয়, সারা দেশের পরীক্ষাই স্থগিত করা হবে এবং পরে একযোগে নতুন তারিখে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনা বা অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে স্থানীয় প্রশাসন যৌক্তিক মনে করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে বলেও জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজারের বেশি। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারও পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।