| Your Ads Here 100x100 |
|---|
গণপূর্ত অধিদপ্তরে সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রচলিত বদলি নীতিমালা ও সার্ভিস রুল উপেক্ষা করে হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে একদিকে যেমন সরকারি উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শত শত কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে নেওয়া এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরে বৈষম্যের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা ও বিভাজন আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো ধরনের সুস্পষ্ট বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, একই বিভাগ বা সার্কেলে একযোগে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করায় চলমান নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বদলির ক্ষেত্রে প্রচলিত দুই বা তিন বছর পূর্ণ হওয়ার নীতিমালা মানা হয়নি। অনেক কর্মকর্তা মাত্র এক মাস, দুই মাস, চার মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছর আগে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করলেও তাদের আবারও বদলি করা হয়েছে। এতে সরকারি প্রশাসনের স্থিতিশীলতা ও কর্মপরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তারা।
আরও অভিযোগ উঠেছে, বদলির ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তাকে ঢাকা বিভাগেই বহাল রাখা হয়েছে, অন্যদিকে রংপুরসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বিভাগেই রাখা হয়েছে। এতে বদলি নীতিমালার সমতা ও ভারসাম্যের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, রাজধানীতে কর্মরত কর্মকর্তারা এমনিতেই সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত; এর পরও তাদের একই এলাকায় রাখার মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
বদলিকৃত একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে তারা পরিবার নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সন্তানদের নতুন স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন এবং নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় আকস্মিক বদলির সিদ্ধান্ত তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। বদলির আগে ব্যক্তিগত সমস্যা, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন কিংবা সন্তানদের শিক্ষার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
কর্মকর্তাদের আরেকটি অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর যেসব কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে পারিবারিক প্রয়োজন, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য মানবিক কারণে বিভিন্ন কর্মস্থলে বদলি হয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে তাদের অনেককেই আবারও স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে তারা নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ, পারিবারিক অবস্থা, মানবিক বিষয়, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং চলমান প্রকল্পের স্বার্থসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাদের দাবি, লটারির মাধ্যমে নির্বিচারে বদলি করা হলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমের গতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বদলিকৃত কর্মকর্তারা বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

