32.3 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

বদলির ধাক্কায় প্রকৌশলীদের কাজে ভাটা! ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়নকাজ

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে একযোগে উপসহকারী প্রকৌশলীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নেওয়া এই উদ্যোগকে অনেক প্রকৌশলী ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে আগের মতো প্রভাব খাটানো কিংবা তদবিরের সুযোগ কমে যায়।

তবে একই সঙ্গে আকস্মিক ও ব্যাপকসংখ্যক বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বদলি, বছরের মাঝামাঝি কর্মস্থল পরিবর্তন এবং পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় না আসার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রকৌশলী।

চলুন জেনে নেওয়া যাক পুরো বিষয়টি।

গত ৩০ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রথম ধাপে বদলি করা হয় ৭৬৭ জন সিভিল উপসহকারী প্রকৌশলীকে।

লটারির ফল অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে ৩১৭ জন, রাজশাহীতে ৭৩ জন, চট্টগ্রামে ১৩৩ জন, খুলনায় ৭৪ জন, বরিশালে ৪৪ জন, সিলেটে ৩৩ জন, ময়মনসিংহে ২৯ জন এবং রংপুরে ৬৪ জন প্রকৌশলীকে বিভিন্ন কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়।

এরপর গত ৩ আগস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল বা ই/এম শাখার আরও ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে একই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়।

অর্থাৎ মাত্র দুই দফার লটারিতেই কর্মস্থল পরিবর্তন হয়েছে মোট ১ হাজার ২১ জন প্রকৌশলীর।

সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে বদলি নিয়ে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো কিংবা তদবিরের সুযোগ কমানো।

তবে বদলি শুরু হওয়ার পর কিছু প্রকৌশলীর মধ্যে অসন্তোষের কথাও সামনে এসেছে।

তাদের অভিযোগ, অনেককে একটি কর্মস্থলে তিন বছর দায়িত্ব পালনের সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই বদলি করা হয়েছে।

কয়েকজন প্রকৌশলী এমনও জানিয়েছেন, তারা মাত্র এক থেকে দুই মাস আগে বদলি হয়েছিলেন। এরপর আবার নতুন করে বদলির তালিকায় আসায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

আর বছরের মাঝামাঝি সময়ে কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে পারিবারিক সমস্যার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করছে, তাদের জন্য হঠাৎ করে অন্য জেলায় চলে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোনো কোনো প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে সন্তানের বিশেষ চিকিৎসাসেবার বিষয়ও রয়েছে। আকস্মিক বদলির কারণে এসব পারিবারিক বাস্তবতা সামলাতে সমস্যায় পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রভাব মাঠপর্যায়ের কাজেও পড়ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বদলির অপেক্ষা, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পদায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কিছু প্রকৌশলী নিয়মিত কাজে অনীহা দেখাচ্ছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এতে সরকারি ভবন, অফিস এবং হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রকৌশলীদের দায়িত্ব পরিবর্তনের ফলে কোনো ধরনের কারিগরি বা রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা তৈরি হয় কি না, সেটিও নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের একসঙ্গে বদলি করা হলে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

তাদের মতে, এসব স্থাপনায় কাজের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন। তাই হঠাৎ করে বড়সংখ্যক কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে চলমান কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তবে লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া প্রকৌশলীদের একটি অংশ আবার এই পদ্ধতির প্রশংসাও করেছেন।

তাদের বক্তব্য, লটারির কারণে বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা তদবিরের সুযোগ অনেকটাই কমেছে।

বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান মিয়াও লটারির উদ্যোগকে বদলি বাণিজ্য ও অনৈতিক তদবির বন্ধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে তার অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বদলি হয়েছে এবং মানবিক বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

তিনি জানিয়েছেন, অকালীন বদলির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৌশলী ও মানবিক বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, এক থেকে দুই মাস আগে বদলি হওয়া কোনো প্রকৌশলী আবারও বদলি হয়ে থাকলে এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেখা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম অবশ্য বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়ায় বদলি বাণিজ্যের সুযোগ নেই।

তার ভাষ্য, যারা কর্মস্থলে স্থবিরতার কথা বলছেন, তাদের কেউ কেউ হয়তো ঢাকার বাইরে যেতে অনিচ্ছুক।

তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কারও যদি খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবারও বদলি হয়ে থাকে এবং সেখানে মানবিক কোনো বিষয় থাকে, তাহলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেছেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে অনীহার সুযোগ নেই।

এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে—লটারির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া কি ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে?

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের লটারির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদপ্তরে আরও বড় পরিসরে পদায়ন ও বদলির সম্ভাবনা রয়েছে।

একদিকে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে লটারি ব্যবস্থাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ, চলমান প্রকল্প, পারিবারিক বাস্তবতা এবং বিশেষ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার দাবিও উঠছে।

তাই এখন নজর থাকবে—লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া প্রকৌশলীরা নতুন কর্মস্থলে কীভাবে দায়িত্ব নেন এবং এর ফলে মাঠপর্যায়ের সরকারি প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়ে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

বিদেশি বিনিয়োগে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী...