রাজধানীর একটি কারখানার কর্মী মো. শাহজাহানকে গুলি করে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াছির আরাফাত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানির জন্য ৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মো. শাহজাহান মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে শাহজাহানের বুকে ও পেটে দুটি গুলি লাগে।
আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শাহজাহানের মা সাজেদা গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ বাসা থেকে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে পুলিশ।
সুস্থ হওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে পল্টন থানার একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।